,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

যৌতুক না পেয়ে অন্তঃসত্বা গৃহবধূকে হত্যা

প্রতিনিধি গাইবান্ধা : গাইবান্ধার সদরে যৌতিকের দাবীতে গৃহবধুকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগে থানায় মামলা। বিয়ের ১০ মাসের মাথায় স্বামীর নির্যাতনে জীবন দিতে হলো ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা জিন্নাত আরা নামের এক গৃহবধূকে। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের জৌদ্দকড়িসিং গ্রামে। নিহতের বাবা জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। এই হত্যাকাণ্ড সহ ৫ মাসের ভ্রুণ হত্যা ঘটনায় এলাকার শত শত মানুষ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। অভিযোগে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লভঝাড় ইউনিয়নের জৌদ্দ কড়িসিং গ্রামের ছইমুদিনের পুত্র মামুন সরকারের সাথে গত ৯ নভেম্বর/২০১৮ তারিখে একই উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের কন্যা জিন্নাত আরার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই মামুন সরকার জিন্নাত আরাকে পিতার বাড়ি থেকে ১ লক্ষ টাকা যৌতুক আনতে বলে। জিন্নাত যৌতুকের টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামুন সরকার বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্ষতন করে। যৌতুক আনতে জিন্নাত আরা অস্বীকৃতি জানালে স্বামী মামুন সরকার সহ তার ভাই ও মা-বোন মিলে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে শয়ন ঘরের ধণার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পরে মামুন সরকার তার স্ত্রী জিন্নাত আরা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে এলাকায় প্রচার করে এবং তার শশুর জিল্লুর রহমানকে মোবাইল ফোনে খবর দিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে জিল্লুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় কোমরের নিচের দিকের অংশ বিছানার উপর লাগানো দেখতে পায়। পরে জিল্লুর রহমান গাইবান্ধা সদর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।

জিল্লুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মামলার এজাহার গ্রহন না করে রহস্যজনক কারণে নিজেরাই একটি অপমৃত্যুর সংবাদ সাজিয়ে ইউ ডি মামলা করেন। পরের দিন ১৭ আগষ্ট/১৯ জিল্লুর রহমান বিষয়টি জানতে পেরে পুনরায় এজাহার করতে গেলে তারা এজাহার দায়ের না করে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। ফলে জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, গাইবান্ধায় ১৮/৮/২০১৯ পিটিশন কেস নং ৯৩/২০১৯ দায়ের করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালত পিটিশনটি এজাহার (এফ আই আর) হিসেবে গন্য করে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করতে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং/০৩) এর ১১/৩০ তৎসহ ৩১৩/৩১৪/৩৪ ধারায় ১৮/০৮/২০১৯ মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর- ৩৮। মামলার আসামিরা হল- জিন্নাত আরার স্বামী মামুন সরকার, দেবর/ভাসুর মাসূদ সরকার, মিঠু সরকার, শাশুড়ি মাফরুজা বেগম, ননদ মৌসুমী বেগম ও ননদিয়া হারুনুর রশিদ। নির্ভরশীল একটি সূত্র জানায়, গাইবান্ধার প্রভাবশালী জনৈক জনপ্রতিনিধি হজ্জ পালন করতে সৌদিতে অবস্থানের সুযোগে তাঁর বাড়ির কেয়ার টেকার আমিরুল ইসলাম জিন্নাত আরা হত্যা ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এলাকার সচেতন জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তারা ২০ আগষ্ট/২০১৯ একত্রিত হয়ে এলাকার হাজার হাজার নারী পুরুষ এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited