,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

স্কুলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পরিচালককে মারধর

টি এম কামাল, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার মেধাবী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইসিএল স্কুলে মালিকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পরিচালক সাহিদুল ইসলামকে স্কুলের ভিতরে মারধরের ঘটনায় ২ দিন ধরে ক্লাশ বন্ধ রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে স্কুলের সকল শিক্ষক দোষীদের শান্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাশে ফিরবে না বলে ঘোষনা দিয়েছে। এ কারনে ১ম থেকে দশ শ্রেনীতে অধ্যায়নরত ৮শ ছাত্র-ছাত্রীর পাঠ গ্রহন ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রম অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সামনে বাৎসরিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রী বিপাকে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

স্কুল সুত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকতার ছোয়া নিয়ে এনায়েতপুর আইসিএল স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর স্কুলের পরিচালক সাহিদুল ইসলামের কঠোর পরিশ্রমে মেধা বিকাশে ভুমিকা পালন করায় বর্তমানে থানার অন্যতম বিদ্যাপিঠ হিসেবে সুনাম অর্জন করছে। তবে সাহিদুল ইসলামের ভাইদের সাথে স্কুল পরিচলানা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে দ্বদ্ধের কারনে তাদের মধ্যে মনমালিন্য চলে আসছিল। হঠাৎ গত মঙ্গলবার দুপুরে সাহিদুল ইসলামের বড় ভাই বাচ্চু হোসেন ও ছোট ভাই ওহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ক্লাশ চলকালীন সময় মারধর করে। তখন সহযোগী ২৫ জন শিক্ষক তাৎক্ষনাত প্রতিবাদ করে স্কুল বয়কট করে। সেসময় স্কুলের ছাত্ররাও এগিয়ে আসলে উত্তেজনা বিরাজ করলে রোশানলে পড়ে বাচ্চু গংরা। এরপর সাহিদুল ইসলাম বের হয়ে আসলে পুরো স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাশ থেকে বের হয়ে আসে। এরপর থেকেই স্কুলটি বন্ধ রয়েছে। বুধবার দিনভর স্কুলটি তালাবদ্ধ ছিল। শারীরিক লাঞ্চিত আইসিএল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, আমার সব পরিশ্রম ঘিরে স্কুলটিকে সাজিয়েছি। স্কুলে কোন অনিয়ম করিনি। অথচ আমার ভাইরা নিজ স্বার্থের জন্য স্কুল তছনছ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। আমাকে মারধর করে স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। আমি ওদের কাছে অসহায় নিন্দা জানানো ছাড়া কোন উপায় নেই।

এদিকে দীর্ঘ দিন ধরে স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত মেহেদী হাসান জানান, তাদের পারিবারিক বিষয় স্কুলের ভিতরে এসে গড়াবে আমরা এমন বিষয় মেনে নিতে পারিনি বলেই সকল শিক্ষকেরা স্কুল বয়কট করেছি। একজন শিক্ষককে মারধর করবে আর আমরা চুপ থাকবো না হয়না। তাই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে আমরা স্কুলে যাচ্ছিনা। তিনি আরো জানান, তাদের নিজেদের দ্বন্ধে স্কুল বন্ধ হওয়ায় সামনে বাৎসরিক পরিক্ষার প্রস্ততি নিয়ে আমরা দ্বিধাদ্বন্ধে পড়েছি। এছাড়া নাম প্রকাশ না করে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা জানান, এভাবে নিরাপরাধ বড় স্যারকে এসে ওরা মারধর করবে আমরা কল্পনা করিনি। স্কুলটি ভালভাবে চললেও স্বার্থন্বেষী ওহিদুল ইসলামের কারনেই পারিবারিক কলহ বাধে। আমরা চাই স্কুল চালু হোক, আমাদের পড়ার সুযোগ তৈরী হোক। সাহিদুল স্যারকে মারধরের সাথে জড়িতদের শাস্তি হোক। তবে অপর পক্ষের ওয়াহিদুজ্জামান জানান, স্কুটি প্রতিষ্ঠিত করে আমার ভাই সাহিদুলকে পরিচালনা করতে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে স্কুল ফান্ডের টাকা আত্বসাৎ ও একছত্র স্বেচ্ছাচারিতা করায় আমরা স্কুলে জানতে গেলে উত্তর দিতে পারেনি। এক পর্যায়ে বড় ভাই তাকে শাসন করেছে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়া নির্বিগ্ন রাখতে পারিবারিক ভাবে সিদ্বান্ত নিয়ে স্কুল খুলে দেয়া হবে। এদিকে সিরাজগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ শফিউল্লাহ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত নই। তবে পাঠদান অব্যাহত রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited