,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

সোনাগাজী থানার পুলিশ খুঁজছে ঢাকায় ওসি মোয়াজ্জেমকে

সিএনআই নিউজ : পুলিশ ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে। তাকে গ্রেফতারে সোমবার রাত থেকে বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সোনাগাজী থানার ওসি মঈন উদ্দিন।সন্দেহভাজন বিভিন্ন স্থানে সোনাগাজী থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করতে অভিযান চালিয়েছে। তাকে গ্রেফতারে ঢাকায় অবস্থান করছে পুলিশের একটি দল। ঢাকায় তার সম্ভাব্য অবস্থানগুলোয় তারা খোঁজ রাখছে। এছাড়া ওসি মোয়াজ্জেমের গ্রামের বাড়ি ও কুমিল্লার বাসায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। একইসঙ্গে তার মোবাইল ফোনের কললিস্টও সংগ্রহ করেছে তারা। গত কয়েক দিনে তিনি কার সঙ্গে কোন অবস্থান থেকে কথা বলেছেন সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসি মঈন উদ্দিন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত রাত থেকেই মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে সোনাগাজী থানা পুলিশ। ইতিমধ্যে একটি দল কুমিল্লার কোতোয়ালী থানা এলাকার বাসায় অভিযান চালিয়েছে।

অন্যদিকে যশোরে তার গ্রামের বাড়িতেও পুলিশ গিয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছে মোয়াজ্জেম হোসেনের অবস্থান সম্পর্কে।’ তিনি জানান, সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের অবস্থান নিশ্চিত হতে এরইমধ্যে তার মোবাইল কললিস্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। তার স্বজনদের মোবাইল নম্বরের ওপরও নজরদারি করা হচ্ছে। তারা আশা করছেন, যে কোনো সময় ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। এক প্রশ্নের জবাবে ফেনীর সোনাগাজী সার্কেলের এএসপি সাইকুল আহমেদ ভুঁইয়া বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছি। তার অবস্থান নিশ্চিত হতে কাজ করছি। এরইমধ্যে ফেনী পুলিশের একটি দল ঢাকায় অবস্থান করছে।’ পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওসি মোয়াজ্জেমকে পুলিশ সদর দফতরে ডেকে নিয়ে ফেনী পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা (ডিআইজি) ওয়াইএম বেলালুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের মূল কাজটা হচ্ছে সোনাগাজী থানা পুলিশের। পুলিশের অন্যান্য টিমও তাদের সহযোগিতা করছে। পুরো বিষয়টি সদর দফতর থেকে তদারকি করা হচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ১৫ দিন পর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারে তৎপর হলো পুলিশ। গত কয়েক দিন থেকে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে ফেনী ও রংপুর পুলিশের ঠেলাঠেলি চলছিল।

ওসি মোয়াজ্জেম পালানোর বিষয়ে টিআইবির বিবৃতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্য এবং সড়ক পরিবহন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হলে তাকে গ্রেফতারে হন্য হয়ে উঠে সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশ। সর্বশেষ সোমবার পলাতক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে খুঁজে বের করতে কারও কোনো গাফিলতি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কারও শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুবই কঠোর।’ এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘পলাতক থাকায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে খুঁজে পেতে একটু সময় লাগছে।’ উল্লেখ্য, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েও দেন তিনি। ভিডিও করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন গত ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এদিকে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, গত ৮ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন। যদিও সেই ভিডিও তার মোবাইল থেকে চুরি করেছে এমন অভিযোগ এনে সময় টিভির ফেনীর স্থানীয় রিপোর্টার আতিয়ার হাওলাদার সজলের বিরুদ্ধে গত ১৪ মে সোনাগাজী মডেল থানায় মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে জিডি করেছিলেন।

পরে সজলও তার বিরুদ্ধে ফেনী মডেল থানায় একটি জিডি করেছিলেন। এর আগে গত ৬ এপ্রিল এইচএসসি সমমানের আলিম আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ১০এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেন আদালত। ২৯ মে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে মামলার এজাহারভুক্ত ৮ জনসহ ১৬ জনকে আসামি করে ৮০৮ পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। ১০ জুন আদালত চার্জশিট আমলে নিয়ে ২০ জুন চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেন।বিভিন্ন সময়ে এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল সহ ১২ জন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, বি-১১৬/১ শিকদার টাওয়ার. বাসস্ট্যান্ড, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
ঢাকা অফিস : ৫৭, দক্ষিনখান (তয়, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
ঢাকা অফিস : ৫৭, দক্ষিনখান (তয় তলা), উত্তরা, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited