,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

খেলাপি ঋণের ভারে নুয়ে পড়েছে বেসিক ব্যাংক

সিএনআই নিউজ : খেলাপি ঋণের ভারে ন্যুব্জ বেসিক ব্যাংক। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে মূলধন ঘাটতিও। জালিয়াতির মাধ্যমে নেয়া সব ঋণই খেলাপি হয়ে গেছে। ঋণ আদায় হচ্ছে না বললেই চলে। দিনের আয় দিয়ে ব্যয় নির্বাহ করা যাচ্ছে না। ফলে লোকসানের অঙ্ক দিন দিন বাড়ছে। সরকার থেকে মূলধনের জোগান দিয়েও ব্যাংক স্বাভাবিক গতিতে চলছে না। বেসিক ব্যাংকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈঠকে ব্যাংকটির সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা শেষে খেলাপি ঋণ আদায় বৃদ্ধি ও ব্যয় কমানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ছোট ছোট প্রকল্পে ঋণ দিতে বলা হয়েছে। সূত্র বলছে, বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সমঝোতা স্মারক সই (এমওইউ) হয়েছে, তার আলোকে ব্যাংকটি কোনো সূচকেই উন্নতি করতে পারেনি। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্ষুব্ধ হয়ে এমওইউ চুক্তি বাতিল করে ব্যাংকটি অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার চিন্তা করছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বৈঠকে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ, ঋণ অবলোপন থেকে আদায়, লোকসানি শাখা কমানোসহ নানা দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মূলধন ঘাটতি মেটাতে ইতিমধ্যেই বেসিক ব্যাংককে সরকারের কাছ থেকে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। তারপরও ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বেড়ে গত ডিসেম্বরে ৩ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ছিল ২ হাজার ৬৫৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ঋণ জালিয়াতির কারণে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া মূলধন ঘাটতির সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি ঋণ বিতরণ করেছে ১৪ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে ৮ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এর মধ্যে আদায় অযোগ্য মন্দমানের খেলাপি ঋণ ৮ হাজার ৩৫০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। যা মোট ঋণের ৫৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। খেলাপির এ হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০১৫ সালে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ছিল ৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৫১ দশমিক ০৯ শতাংশ। একইভাবে ২০১৬ সালে বেসিকের খেলাপি ছিল ৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৫৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১৭ সালে খেলাপি ছিল ৭ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৫৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এছাড়া ২০১৮ সালে ব্যাংকটির শাখা ছিল ৬৮টি। এর মধ্যে ১৮টি শাখাই লোকসানি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেসিক ব্যাংক আগ্রাসী ঋণ দিয়েছে। এসব ঋণের বেশির ভাগই ফেরত আসেনি। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির ঋণ-আমানত রেশিও (এডিআর) ১০০ দশমিক ২৫ শতাংশ হয়ে যায়। এরপর ২০১৮ সালে এডিআর আরও বেড়ে ১০৯ দশমিক ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকটি ২০১৭ সালে ঋণ অবলোপন করেছে ৪৪৪ কোটি টাকা। কিন্তু এ থেকে এক বছরে এক টাকাও আদায় করতে পারেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসিক ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে আটকে আছে ২ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৮ সালে আদায়ের লক্ষ্য ছিল ৪৭৮ কোটি টাকা। হয়েছে মাত্র ২১ কোটি টাকা। ব্যাংকের রিটার্ন অন ইক্যুইটি (আরওই) ৩৪ দশমিক ০৮ শতাংশ কমেছে। রিটার্ন অন এসেট (আরওএ) কমেছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। ফলে ব্যাংকটির নিট লোকসান ৩৫৪ কোটি টাকায়। এদিকে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেই ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ৬৮ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়ে। পরে ঋণ বিতরণ বাড়ায় ও কিছু ঋণ আদায় হওয়ায় শতকরা হিসাবে এখন খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে। ২০০৯ সালে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল ১৪১ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০১৮ সালে বেসিক ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণের হার ৯ বছরে বেড়েছে ৫৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। বেসিক ব্যাংকের সব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুসহ কতিপয় পরিচালক ও কর্মকর্তার সংশ্লেষ ছিল। ২০১৩ সালের ১৫ জুলাই বেসিক ব্যাংকের ওপর পরিচালিত বহিঃনিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মেসার্স আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরী চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ফার্মের নিরীক্ষা ও অনুসন্ধানে এ তথ্য উদ্ঘাটন হয়।ফার্মটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যানসহ কতিপয় কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট। ব্যাংকের মুনাফা প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে ব্যাংকটি মুনাফা করেছিল ১৫৭ কোটি টাকা। কিন্তু ওই সময়ের তুলনায় বেশি জনবল, শাখা ও আধুনিক সুবিধা নিয়ে ২০১৮ সালে মুনাফার পরিমাণ বাড়ার পরিবর্তে কমে দাঁড়ায় ১১৩ কোটি টাকা। একদিকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, অন্যদিকে মুনাফা কমে যাওয়ায় পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়ে ব্যাংকটি। এ সময়ও ব্যাংকে জনবল নিয়োগেও নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited