,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

রাঙামাটি রিসোর্ট

সিএনআই নিউজ : সিলেট সফরে এবারের সঙ্গী ছিলেন কলেজ বন্ধু সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন। ঢাকায় বাস করলেও আমাদের পৈতৃক নিবাস সিলেটের হবিগঞ্জ। সিলেটের প্রায় সব দর্শনীয় স্থান আমাদের দেখা। মিসবাহ একদিন মৌলভীবাজারের রাঙাউটি রিসোর্টের গল্প শুনিয়েছিল। ঠিক হলো মে দিবসে সেখানেই যাবো। প্রথমে হবিগঞ্জে নিজ নিজ গৃহে এক দিন কাটিয়ে পরদিন দুপুরে রাঙাউটি রিসোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আমাদের সঙ্গী মিসবাহর স্ত্রী সাদিয়া ভাবি ও তাঁদের আড়াই বছরের ছেলে জায়ান। হবিগঞ্জ জেলা শহর থেকে ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই রাঙাউটি রিসোর্টে পৌঁছালাম। রিসোর্টের উদ্যোক্তা সৈয়দ মুনিম আহমেদ রিমন। রিসিপশনে বসে কোমল পানীয় পান করতে করতে তিনি এসে হাজির। রিমন ভাই আমাদের পুুুরো রিসোর্ট ঘুরিয়ে দেখালেন। মৌলভীবাজার শহর থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে এই রাঙাউটি। পাশেই তালতলা বাজারে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ মনু ব্যারেজ লেক। একসময় মূল মনু নদীর একটা অংশ ছিল এই লেক। মনু নদীতে ব্যারেজ স্লুইস গেট করে লেকটি নদী থেকে আলাদা করা হয়েছে। লেকের পানি কমে গেলে স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়। লেকের পানির গভীরতা ২০ ফুট, কোথাও কোথাও ২৫ থেকে ৩০ ফুট। বহুকাল আগে লেকটি যখন মনু নদীর অংশ ছিল, তখন এখানে গভীর খাদ ছিল। আনুমানিক ৮০ ফুট গভীর ছিল খাদটি। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে মনু নদী মৌলভীবাজারে প্রবেশের অংশে একটি জায়গার নাম ছিল রাঙাউটি। ওই স্থানের নাম থেকেই নাকি এই গভীর খাদের নাম হয়েছিল ‘রাঙাউটির ঢর’। সেটা মাথায় রেখেই এই রিসোর্টের নাম করা হয় ‘রাঙাউটি রিসোর্ট’।

রিমন ভাই জানালেন, রাঙাউটি অর্থ রাঙা বধূ। পূূর্ণিমার রাতে রিসোর্টটি নাকি একদম রাঙা বধূূূূর রূপ ধারণ করে। চারদিকে সবুজ, বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ। রিসোর্টের মূল ভবনটি বেশ দৃষ্টিনন্দন। মূল ভবনের সামনে রিসিপশন, উন্নতমানের একটি রেস্টুরেন্ট। পেছনে কনফারেন্স হল। মূল ভবনের বাম দিকে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। ডান দিকে বিশাল প্রাকৃতিক মনু ব্যারেজ লেক। মূল ভবন পার হয়ে বড় একটি মাঠ। চারদিকে বসার ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থানে দোলনা ও বাচ্চাদের খেলাধুলার উপকরণ। পর্যটকদের থাকার জন্য মাঠের বাম দিকে কয়েকটি লেকভিউ কটেজ। বাইরে থেকে মনে হয় আধা পাকা ছনের ঘর, কিন্তু ভেতরে আরামদায়ক ব্যবস্থা। লেকভিউ কটেজগুলোর বারান্দায় বসে লেক দেখতে দারুণ লাগে। লেকের পারে বেঞ্চে বসেও সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। লেকে রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে ভাসমান কটেজ। সেখানে থাকতে খরচ একটু বেশি।রিসোর্টের মাঠের পাশে পুল খেলার রুম ও সুইমিং পুল। রুম বুকিং দিলে সুইমিং পুলে গোসল ও পুল খেলতে আলাদা চার্জ লাগে না। নইলে সুইমিং পুলে গোসল ও পুল খেলতে আলাদা চার্জ দিতে হয়। আমরা পুল খেলে সময় কাটালাম। লেকে বড়শি দিয়ে মাছ শিকারের ব্যবস্থা আছে। তার জন্য আলাদা চার্জ দিতে হয়। প্রায় ঘণ্টাখানেক চেষ্টা করেও মাছ শিকারে ব্যর্থ হলাম। কিন্তু রিমন ভাই ও মিসবাহ সফল। দুজনে মিলে বড়শি দিয়ে তিনটি দেশি মাছ ধরল। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। রিমন ভাই বললেন, সন্ধ্যার আগেই স্পিডবোটে লেক ঘুরে আসতে। রিসোর্টের মূল ভবনের ডান দিকে লেক পারে সুন্দর একটি ঘাট। পর্যটকদের লেক ঘুরে দেখার জন্য সেখানে ১০-১২টি স্পিডবোট। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর দুই কিলোমিটার লেকটি স্পিডবোটে ঘুরে আসতে ২০ মিনিট লাগল। লেকের আশপাশে শুধুই সবুজ অরণ্য, কোনো জনবসতি নেই। সন্ধ্যায় নীড়ে ফেরা হাজার হাজার পাখি দেখলাম। বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কিচিরমিচিরে দারুণ এক পরিবেশ। একসঙ্গে এত পাখি দেখে মনটা ভরে গেল। রিমন ভাই বললেন, শীতকালে এখানে লক্ষাধিক অতিথি পাখি আসে। তখনকার পরিবেশ হয়ে ওঠে আরো মনোরম। পরদিন সকালে ঘুম ভাঙল পাখির ডাকে। লেকের পারের অরণ্য থেকে হাজার হাজার পাখি দল বেঁধে আকাশে উড়ে যাচ্ছে। তাদের কিচিরমিচির পরিবেশ অন্যরকম করে দিচ্ছে।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited