,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

“শহীদ সাগর” মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে লেখা ৪২ শহীদের নাম

তোফাসানি, নাটোর থেকে ফিরে :

নিজস্ব ভূ-খন্ড বিনির্মানে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন লাখো শহীদ। তেমনি নাটোরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে শহীদ সাগর। যে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও স্মৃতিস্তম্ব দাঁড়িয়ে আছে নাটোরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল চত্বরে। 
১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ লালপুর উপজেলার গোপালপুরের ৪ কিলোমিটার উত্তরে ময়না গ্রামে খান সেনাদের এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পরেরদিন পাক সেনাদের মেজর রাজা খান চুপিসারে পালানোর সময় স্থানীয় জনগণ তাকে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া ঈশ্বরদী বিমান বন্দরে যেন পাক সেনা অবতরণ করতে না পারে সেজন্য স্থানীয় মুক্তিকামী জনগণ সুগার মিলের বুলডোজারসহ অন্যান্য যানবাহনের সহায়তায় বিমান বন্দরের রানওয়ে ভেঙ্গে অকেজো করে দেন।

শহীদ সাগরের সামনে বার্তা বিচিত্রার নির্বাহী সম্পাদক তোফায়েল হোসেন তোফাসানি। 

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গোপালপুরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল তবুও অত্র এলাকার আখচাষীদের স্বার্থে জাতীয় প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখার জন্য মিলের সকলেই যার যার দায়িত্বে ন্যস্ত ছিল।
সেদিনছিল ৫ মে, চারিদিকে থমথমে অবস্থার মধ্যেও মিলের কাজ চলছিল। সকাল ১০-০০ টার দিকে লাল শালু কাপড়ের ব্যান্ড পরা কিছু রাজাকারের সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনীর একটি দল অতর্কিতে মিল ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশ করে এবং ময়নার যুদ্ধ এবং পাক সেনা কর্মকর্তার হত্যার মিথ্যা অভিযোগে তৎকালীন মিলের প্রশাসক জনাব লেঃ আনোয়ারুল আজিম এবং অন্যান্য কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারীদের ডেকে বর্তমান অতিথি ভবনের সামনের পুকুরের পার্শ্বে ব্রাশ ফায়ারে নির্মমভাবে হত্যা করে পুকুরের পাড়ে ফেলে চলে যায়। শহীদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায় পুকুরের পানি।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর উল্লিখিত পুকুরটি ‘‘শহীদ সাগর’’হিসেবে নামকরণ হয়। যতদুর জানা যায় ‘‘শহীদ সাগর’’নামকরণের পূর্বে পুকুরটি ‘গোপাল সাগর’নামে পরিচিত ছিল। উল্লেখ্য ১৯৭৩ সালে শহীদ আনোয়ারুল আজিম এর স্মরণে স্থানীয় গোপালপুর রেলওয়ে ষ্টেশনটি ‘‘আজিমনগর ষ্টেশন’’নামে অভিহিত হয়।
১৯৭৩ সালের ৫ মে শহীদ সাগর চত্বরে শহীদ লে. আনোয়ারুল আজিমের স্ত্রী বেগম শামসুন্নাহার স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করেন । স্মৃতিস্তম্ভের পূর্বে রয়েছে ছিমছাম ফুল বাগান । আর পাশেই রয়েছে একটি জাদুঘর । ২০০০ সালের ৫ মে [৩] জাদুঘরটি উদ্বোধন করা হয় । আর স্মৃতিস্তম্ভের পিছনে রয়েছে দুঃস্বহ স্মৃতিজড়িত সেই পুকুর । সিঁড়িতে যেসকল যায়গায় বুলেটের গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, সেসকল জায়গায় আজ প্রতীকি লাল রঙে শহীদের রক্তের চিহ্ন আছে । প্রতিবছরের ৫ মে শহীদদের স্মরণে নানা আয়োজনে পালিত হয় নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল গণহত্যা দিবস।

শহীদদের তালিকা

ইতিহাসের নির্মম এ গণহত্যায় ৪২ জনের নাম জানা গেলেও অন্যদের পরিচয় আজও মেলেনি । 
যারা শহীদ হয়েছিলেন তারা হচ্ছেন- অবঃ লে. মোঃ আনোয়ারুল আজিম (মুক্তিযোদ্ধা), শহিদুল্লাহ, গোলজার হোসেন তালুকদার, সাইফুদ্দিন আহম্মদ, আবুল হোসেন, সৈয়দ আবদুর রউফ, মান্নান ভূইয়া, গোলাম কিবরিয়া, নূরল হক, আজহার আলী, মকবুল হোসেন, আবুল বাসার, মুনসুর, রহমান, সাজেদুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, হাবিবুর রহমান, মোসাদ্দেরুল হক, মোকসেদুল আলম, আঃ রহমান আমিন, মোহাম্মাদ আলী, মোজাম্মেল হক, আব্দুল মান্নান, ফিরোজ মিয়া, আক্তার উদ্দিন, মোহরাব আলী, আনোয়ারুল ইসলাম, পরেশ উল্লাহ, আঃ মান্নান, কামাল উদ্দিন, আবুল কাশেম, আব্দুর রব, শামসুল হক, আব্দুল মজিদ, আবুল কালাম, নজরুল ইসলাম, আয়েজ উদ্দিন, আব্দুল রাজ্জাক, তোফায়েল, মোসলেম উদ্দিন, শহীদুল্লাহ, মোঃ আলীসহ প্রমুখ আরো অনেকের পরিচয় জানা যায় নি ।
এ নির্মম গণহত্যা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া সৌভাগ্যবান হলেনঃ
মেহমান আলী, নওসাদ আলী, খন্দকার ইমাদ উদ্দিন আহম্মেদ, আব্দুল জলিল শিকদার, তোফাজ্জল হোসেন, আজের আলী প্রমুখ।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited