,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

টাকা হতে সাবধান!

৭৮ রকম জীবাণুর একটি হতে পারে মৃত্যুর কারন

তোফায়েল হোসেন তোফাসানি : টাকা ছাড়া মানুষ অচল। অথচ জীবাণু সংক্রমনের মাধ্যমে এই টাকাই হতে পারে আমার বা আপনার মৃত্যুর কারণ। তাই টাকা লেনদেন এবং ব্যবহারে আমাদের সতর্ক হতে হবে।
জীবনের প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত আমাদের টাকা ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু এই টাকা অজান্তেই আমাদের ব্যাপক ক্ষতি করছে। টাকা এক হাত হয়ে চলে যাচ্ছে আরেক হাতে। আমরা টাকাকে যেখানে ইচ্ছে সেখানে রাখছি। দিন দিন কাগজের নোটগুলো ব্যবহারের ফলে ময়লা হয়ে যায়। টাকা হাতে নিলে আমরা এসব ময়লা অনুভব করে থাকি। কিন্তু কখনওকি ভেবেছি এই টাকার মধ্যেই রয়েছে মরনব্যাধি। টাকার মাধ্যমে জীবাণূ সংক্রমন হয়ে আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
গবেষনায় দেখা গেছে, টাকার মধ্যে কমপক্ষে ৭৮ টি জীবাণুর খোঁজ মিলেছে। টাকা লেনদেনের সঙ্গে এই জীবাণুরও লেনদেন ঘটে। আর এভাবেই এসব ক্ষতিকারী জীবাণু পৌঁছে যাচ্ছে আপনার হাতে। একটু অসতর্ক হলেই সেই জীবাণু হাত থেকে পেটে যেতে সময় নেয় না।
ইনস্টিটিউট অব জেনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন টাকার মধ্যে যে সব ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের হদিস মিলেছে, সে সব জীবাণুই পেটের রোগ থেকে মাথা যন্ত্রণা-সহ একাধিক রোগের জন্য দায়ী। দিল্লির এক হাসপাতালের অণুজীব বিজ্ঞানী নন্দিনী দুগ্গল জানাচ্ছেন, টাকা বাহিত রোগগুলির মধ্যে অন্যতম ইনফ্লোয়েঞ্জা। তাঁর নিদান, টাকা ব্যবহারের পর ভাল করে হাত ধুয়ে নিন।
গবেষক মুনীব ফায়েক বলছেন, “’টয়লেট পেপারের থেকেও টাকা বেশি নোংরা। টাকার মাধ্যমে জীবাণু বেশি ছড়ায়।” মুনীব আরও জানান, মুখের লালা হাতে লাগিয়ে টাকা গোনা এখুনি নিষিদ্ধ করা উচিত। এক গবেষণায় জানা গিয়েছে, টাকার মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে ইউক্যারিওটিক প্রজাতির ছত্রাক (৭০ শতাংশ), ব্যাকটেরিয়া (৯শতাংশ) এবং ভাইরাস (<১ শতাংশ)।
টাকা থেকে যে ৭৮ রকমের জীবাণু মিলেছে, তার মধ্যে স্ট্যাফিলোকোকাস এবং এন্টারোকোকাস প্রজাতির জীবাণু অন্যতম। স্ট্যাফিলোকোকাস-এ সাধারণত ত্বকের রোগ, সর্দি কাশি, পেটের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে। এন্টারোকোকাস-এ আবার দাঁতের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্পের কর্মকর্তা আমজাদুল হক বলেন, বাংলাদেশে টাকার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশী ই কোলাই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তাই টাকা হাইজেনিক পদ্ধতীতে ব্যবহার করা উচিৎ। তিনি আরো বলেন, আমাদের পেটের পীড়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, যক্ষা, নিউমোনিয়া, চর্মরোগসহ নানা রোগ ছড়ানোর মাধ্যম এই টাকা।
সাধারণ মানুষ বলছেন, বাজারে সবচেয়ে কমমানের টাকা এতই নোংড়া যে হাতে ধরলেই ময়লা লেগে যাচ্ছে। পকেটে রাখলেও পকেট ময়লা হয়ে যাচ্ছে। তাই বাজার থেকে এসব টাকা দ্রুত অপসারন করে নতুন নোট বাজারে ছাড়তে হবে।

ই কোলাই কি ? জেনে নিন:-


ইশেরশিয়া কোলাই বা ই. কোলাই হলো অণুজীব জগতের সেলিব্রেটি। যারা অন্তত একটা অণুজীবের নাম জানেন তাদের ক্ষেত্রে এ অণুজীবটির নাম হয় ই কোলাই। ১৮৮৫ সালে জার্মান-অস্ট্রিয়ান শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ থিওডোর ইশেরিখ মানুষের মলে ই. কোলাই আবিষ্কার করেন। তিনি দেখেন অনেক শিশু ডায়েরিয়ায় মারা যাচ্ছে। জার্ম থিওরি তখনও প্রতিষ্ঠিত হয় নি। কিন্তু এশেরিখ ধারণা করলেন জার্ম থিওরির মাধ্যমেই এই রোগের কারণ বের করা যাবে। জার্ম থিওরিই প্রথম বলেছিলো যে অণুজীবের কারণের রোগের সৃষ্টি হয়। তিনি শিশুদের মল সংগ্রহ করে তা কালচার করলেন এবং তাতে রড আকারের এক ধরণের অণুজীব দেখলেন। তিনি তার নাম দিলেন Bacillus communis coli. এশেরিখের মৃত্যুর পর তার সম্মানে অণুজীবটির নাম রাখা হলো Escherichia Coli.
ই কোলাই রড আকারের একটি গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া। এরা fecultative anaerobic. কথাটার মানে হলো এরা অক্সিজেনের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি উভয় অবস্থাতেই টিকে থাকতে পারে। এটি উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর অন্ত্রে বাস করে। ই কোলাই মাত্র বিশ মিনিটে বংশবৃদ্ধি করতে পারে। ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হলো এদের জন্যে অনুকূল তাপমাত্রা। ই কোলাই মূলত কোলিফর্ম ( Coliform) গোত্রের অণুজীব। কোলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া তারাই যারা ল্যাকটোজকে ফার্মেন্ট করতে পারে।

আমাদের শরীরে কিছু অণুজীব এমনিতেই থাকে। এরা আমদের কোন ক্ষতি করে না। উলটো আমাদের শরীরবৃত্তীয় নানা কাজে সাহায্য করে। এদেরকে বলা হয় Normal Microbiota. ই কোলাই এই নরমাল মাইক্রোবায়োটার অংশ। কিন্তু আমাদের জন্মগ্রহণের সময় আমাদের দেহে কোন মাইক্রোবায়োটা থাকে না। মার দুধ থেকে, নার্স কিংবা অন্যান্য আশেপাশের মানুষ থেকে প্রায় হাজার ধরণের অণুজীব শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। ওই এক হাজারের মধ্যে একটি হলো ই কোলাই। ই কোলাই আমাদের অন্ত্রে ক্ষতিকর কোন অণুজীবের বাসা বাঁধতে বাধা দেয় না।
জেনেটিক্স এবং অণুজীববিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে ই কোলাইকে প্রায়ই ব্যবহার করা হয়। কোহেন এবং হারবার্ট বয়ের ই কোলাইকে ব্যবহার করে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরি করেন। এভাবে ই কোলাইকে জেনেটিকাল পরিবর্তন করে ভেক্সিন তৈরি, নানা ধরণের এনজাইম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। একটা যুগান্তকারী আবিষ্কার হলো ই কোলাই ব্যবহার করে ইনসুলিন তৈরি। যা লাখ লাখ ডায়েবেটিস রোগীর জীবনকে সহজ করেছে।
ই কোলাই এর সব স্ট্রেইন রোগ সৃষ্টি করে না। কয়েকধরণের ই কোলাই রোগ সৃষ্টি করে। প্রত্যেকটা ধরণকে এক একটা ভিরোটাইপ বলে। নিচে ভিরোটাইপগুলো দেয়া হলো।
EPEC মানে হল Enteropathogenic E. Coli. এর একটা হলো Enterotoxigenic E coli. নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এরা টক্সিন তৈরি অর্থাৎ বিষক্রিয়ার মাধ্যমে রোগ সৃষ্টি করে। এরা শিশুদের ডায়েরিয়া সৃষ্টি করে। সাথে তৈরি করে ট্র্যাভেলার্স ডায়েরিয়া। এরা কোন বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে না। এদের রোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া অনেকটা অণুজীবের মত। এরা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ডায়েরিয়া সৃষ্টি করে।
EHEC বা Enterohemorrhagic E. coli. এদের কারণে রক্ত ডায়েরিয়া হয়।
EIEC বা Enteroinvasive E. coli Ges EAEC বা Enteroaggregative E. coli এই দুই ভিরোটাইপের জন্যেও ডায়েরিয়া হয়।
ই কোলাই দিয়ে আক্রান্ত হলে পেট ব্যথা , পাতলা পায়খানা, গ্যাস, ক্ষুধামন্দা, বমি ভাব, জ্বর এই ধরণের উপসর্গ দেখা যায়। রোগ আরও খারাপ পর্যায়ে গেলে প্রস্্রাবে রক্ত যাওয়া, প্রস্্রাব কমে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।
এই ধরণের রোগ থেকে বাঁচার জন্যে খাবার ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। হসপিটালে যাতে ই কোলাই এর সংক্রমণ না হয় সে জন্যে হসপিটালে সবসময় জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited