,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

ফসলের হাসিতে ভরে ওঠে যমুনা চরের কৃষকের বুক


টি এম কামাল : দিগন্তজুড়ে সবুজের সমারোহ। মৃদু বাতাসে দোল খাচ্ছে সবুজ ধানের পাতা। এ যেন নীল যমুনার বুকে সবুজ সমুদ্রের ঢেউ। সবুজ ঢেউয়ের সঙ্গে সঙ্গে দুলে ওঠে কৃষক নূরুল ইসলামের হৃদয়। উঠোন ভরা সোনালি ধানের যে স্বপ্ন তিনি এতোদিন বুনে এসেছিলেন, তা যেন আজ সত্যি হয়ে হাতছানি দিচ্ছে তার জীর্ণ কুটিরে।

যমুনার জেগে ওঠা চরে চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ঘোড়াগাছা চরের কৃষক নূরুল ইসলাম। ধান ক্ষেতে নিড়ানি দিচ্ছিলেন তিনি। মৃদু হাওয়া দোল খাওয়া সবুজ পাতাগুলোর মত তার হৃদয়ও যেন দুলে দুলে উঠছিল। খুশিতে উৎফুল কৃষক নূরুল ইসলাম বলেন, বাবার প্রায় ১৩ বিঘা আবাদি জমি এক সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। যমুনার বুক চিরে জেগে উঠেছে চর। ফলে জেগে উঠেছে আমাদের বাড়িসহ প্রায় চার বিঘা আবাদি জমি। এই জমিতে আমি ধান আবাদ করেছি। গাঢ় সবুজ পাতাগুলো দেখে মনে হচ্ছে ফলনও খুব ভাল হবে। নূরুল ইসলাম ছাড়াও চরের আব্দুর খালেক, হোসেন আলী, কাশেম সরকার, আব্দুল ওয়াহাব, ইউসুফ আলী, গোলাম হোসেন, নজরুল ইসলামসহ অনেক কৃষকই এখন ব্যস্ত চাষাবাদে। আবাদ করছেন বোরো ধান, ভূট্্রা, বাদাম, গম, মাসকলাই, তিল, তিশি, খেসারিসহ রকমারি ফসল, বাদ যায়নি কৃষকদের বসতবাড়ির আঙিনাও। সেখানে লাগিয়েছেন কলাগাছ, লাউগাছসহ বিভিন্ন শাক-সবজি। নদীভাঙনে সর্বস্ব খোয়ানো শত শত কৃষক এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নেমেছেন। একটি জমিতে একইসঙ্গে একাধিক ফসল উৎপাদন করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

বুধবার কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া, খাসরাজবাড়ী, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুরনগর, শুভগাছা, মাইজবাড়ী ও চরগিরিশ ইউনিয়নের যমুনার চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। চরাঞ্চলের মানুষগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় মাঠভরা ফসল, গোলাভরা ধান আর যমুনার রুপালি মাছ ছিল চরের মানুষের ঘরে ঘরে। গত দুই যুগ ধরে নদীভাঙন আর প্রলয়ঙ্করি বন্যায় একে একে সবকিছুই যমুনার গর্ভে চলে যায়। ধীরে ধীরে সহায়-সম্পত্তি সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে কৃষকরা। সব হারিয়ে উচুঁ চরে ও বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করতেন চরবাসী। ২০১৫ সালের শেষের দিকে নাটুয়াপাড়ায় রক্ষায় যমুনার বুক চিরে একটি ক্রসবার বাঁধ নির্মাণ করায় খাসরাজবাড়ী, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জেগে উঠেছে বিশাল চর। এসব অঞ্চলের সর্বস্ব হারানো কৃষকদের মনে বইছে আনন্দের সুবাতাস। নতুন করে ফিরে পাওয়া বাপ-দাদার ভিটে-মাটিতে বসবাস ও চাষাবাদ করছেন তারা। ধান, গম, আখ, ভুট্টা, চীনাবাদাম, কালাইসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ হচ্ছে এখানে। এছাড়াও নিজ বাড়িতে গরু, ছাগল, হাস-মুরগি পালন করে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছেন কৃষাণীরা।

নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল মান্নান চাঁন বলেন, চরাঞ্চলের জমি জেগে ওঠায় হতদরিদ্র চরবাসীর ভাগ্য বদলে গেছে। এখন আর চরের মানুষের অভাব-অনটন নেই। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আধুনিকতার ছোঁয়াও পৌঁছে যাচ্ছে চরাঞ্চলে। নাটুয়ারপাড়ার ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক জানান, চর রক্ষায় ১টি ক্রসবার বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে শত শত বর্গকিলোমিটার ভূমি যমুনার গর্ভ থেকে উদ্ধার হয়েছে। জেগে ওঠা জমির খাজনা নেয়া বন্ধ রয়েছে। এসব জমিতে কৃষকরা চাষাবাদ করছেন। যে কৃষক যে জমির মালিক ছিলেন, তিনি সেই জমি চাষাবাদ করছেন। তবে জেগে ওঠা এসব জমি খাস হবে কিনা সেটা নির্ধারণ করবে প্রশাসন।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম জানান, কাজিপুরে চরাঞ্চলে ৫ হাজার ২০০শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ফসলের চাষাবাদ হয়েছে। এসব জমিতে ধান গমের পাশাপাশি ব্যাপকহারে ভুট্টা ও চীনাবাদাম আবাদ করছেন কৃষকরা।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited