,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

আওতা বাড়ানোর দাবি,করের বোঝা নয়

সিএনআই নিউজ : চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩৪ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার এ ঘাটতি মেটাতে করদাতাদের ওপর চাপ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। করের বোঝা না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে আগামী বাজেটকে বিনিয়োগবান্ধব করার জন্য আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক আইনে সংস্কারের জন্য ৭৬ প্রস্তাব দিয়েছে এমসিসিআই।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলনকক্ষে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব দেয় এমসিসিআই। এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এনবিআরের শুল্কনীতির সদস্য ফিরোজ শাহ আলম, ভ্যাটনীতির সদস্য আব্দুল মান্নান সরকার, আয়করনীতির সদস্য কানন কুমার রায়সহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এমসিসিআইয়ের সহসভাপতি গোলাম মাইনুদ্দিন, চেম্বার কমিটির সদস্য আনিস-উদ-দৌলা, আনিস এ খান, তারেক মোহাম্মদ আলীসহ সংগঠনটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় গোলাম মাইনুদ্দিন বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে। অতিরিক্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অতীতে বড় কম্পানিগুলোকে চাপ দিতে দেখা গেছে। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে সরকারকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে। এ সময় কম্পানির লভ্যাংশ বিতরণে বারবার করারোপ ও দ্বৈত কর ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক খাতে বেশ কয়েকটি সংস্কার প্রস্তাব দেন তিনি।

এমসিসিআইয়ের বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনটির ট্যারিফ, ট্যাক্সেশন কমিটির চেয়ারম্যান আদিব এইচ খান। তিনি করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখে উন্নীতকরণ, ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, সিএসআরের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের ওপর কর রেয়াত, বিনিয়োগ স্কিমে অনুমোদিত বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি, কম্পানির বিদেশি ভ্রমণ ব্যয়ের সীমা ১.২৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে উন্নীতকরণ, লোকসানি কম্পানির পরামর্শ সেবায় কর অব্যাহতি, করপোরেট করহার কমানো, সারচার্জের সীমা বাড়ানো, ভ্যাটের স্ল্যাবভিত্তিক হার অব্যাহত রাখা, মূলধনী যন্ত্রাংশ ও মধ্যম পর্যায়ের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাবসহ আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট আইনে ৭৬টি সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে এসিআইয়ের চেয়ারম্যান আনিস উদ দৌলা বলেন, আয়কর আইনের বেশ কিছু সমস্যা ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাধারণ নিয়মে আয় হলেই শুধু আয়কর দিতে হয়। তবে আমাদের দেশের আইনের কারণে লোকসানি প্রতিষ্ঠানকেও কর দিতে হয়। বেশি বেতনের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে দ্বৈত কর পরিশোধ করতে হয়। আয়কর আইনের পারকিউজি হিসাবের কারণে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বেতনভোগীকে নিয়মিত করের বাইরে আবার কর দিতে হয়। এটি আয়কর আইনের পরিপস্থী।

বেতনের নামে কম্পানিগুলো কর ফাঁকি দিচ্ছে বলে এটি তুলে দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান এনবিআর করনীতির সদস্য কানন কুমার রায়। বিদেশি কর্মচারীদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে স্থানীয় কম্পানিগুলো এমনটি করছে বলে উদাহরণও দেন এনবিআরের এ সদস্য।

এর আগে এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবিরের পক্ষে সূচনা বক্তব্যে গোলাম মাইনুদ্দিন বলেন, অর্থনীতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা আছে। এগুলো সমাধান করা না হলে আগামী অর্থবছরে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ব্যাহত হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে না। ভৌত অবকাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের স্বল্পতা শিল্পোন্নোয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমসিসিআইয়ের সহসভাপতি বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। বর্তমানে সব ব্যাংকই তারল্য সংকটে ভুগছে। এ অবস্থা থেকে ব্যাংকগুলোকে উত্তরণ না ঘটাতে পারলে বড় সমস্যায় পড়তে হবে। তাই এবাবের বাজেটে ব্যাংক খাতের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে গোলাম মাইনুদ্দিন বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো অনিশ্চয়তা ও স্থবিরতা রয়েছে, বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হচ্ছে না। দেশের উৎপাদন খাত এখনো বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। তাই আগামী বাজেটে শিল্প ও কৃষি খাতের অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য শক্ত নীতি প্যাকেজ থাকতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের জন্য উদার বরাদ্দ রাখা উচিত, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গোলাম মাইনুদ্দিন বলেন, নিত্যপ্র্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে জীবনধারণের ব্যয় বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বর্তমানে প্রচলিত কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়ের ঊর্ধ্বসীমা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত জীবনযাত্রার ব্যয় পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়করের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো প্রয়োজন। চেম্বার বরাবরই সর্বোচ্চ করহার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমানে করদাতার সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হলে করদাতারা আয়কর রিটার্নে সঠিক তথ্য উপস্থাপনে উৎসাহী হবে।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতিবছরই ব্যবসায়ীদের অভিযোগ থাকে, ব্যবসায়ীদের পরামর্শ বাজেটে প্রতিফলিত হয় না। আমরা এবার এ অভিযোগ থেকে বের হয়ে আসতে চাই। বাজেটে ব্যবসায়ীদের বাস্তবসম্মত প্রস্তাবগুলো রাখতে চেষ্টা করবে এনবিআর। তবে রাজস্ব আহরণের বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এনবিআরের লক্ষ্য হলো ব্যবসার সুযোগ করে দিয়ে রাজস্ব আহরণ। করপোরেট করহার কমানোর বিষয়টি সব মহল থেকেই দাবি করা হচ্ছে। আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি, অনেক দেশের চেয়ে আমাদের করপোরেট করহার কম। তবে আমাদের দেশে তালিকাভুক্ত কম্পানির সংখ্যা কম হওয়ায় উচ্চ স্ল্যাবে করপোরেট কর পরিশোধ করতে হয় অধিকসংখ্যক কম্পানিকে।

তিনি বলেন, অন্যান্য দেশে তালিকাভুক্ত কম্পানি বেশি হওয়ায় তারা সুযোগ পেয়ে থাকে। যেসব প্রতিষ্ঠান কর অব্যাহতি পাচ্ছে তাদের যেন অগ্রিম আয়কর দিতে না হয় সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতির সনদ দিতে হবে। এ ছাড়া ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদানকৃত প্রতিষ্ঠান যেন সঠিকভাবে রেয়াত পেতে পারে সে বিষয়টি দেখা হবে।’

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited