,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

এই প্রথম স্বাধীনতার পর ‘মন্ত্রিশূন্য’ কিশোরগঞ্জ

Kishoregonjসিএনআই নিউজ :এই প্রথমবার কিশোরগঞ্জকে মন্ত্রিত্বহীন রেখে যাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত কোন সরকারের। এ রাজনৈতিক দলের অন্যতম প্রাণপুরুষ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অন্তর্ধানের শোকের বোঝা বহনের সময় কিশোরগঞ্জের কাউকে মন্ত্রিত্ব না দিয়ে সরকার গঠন কিশোরগঞ্জবাসীকে হতাশ করেছে।

বিপুল এই বিজয়ের আনন্দের মিছিল যেনো হঠাৎ থমকে গেছে। এর আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত সকল সরকারের মন্ত্রী পরিষদে আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে কিশোরগঞ্জের রাজনীতিকদের বিশেষ স্থান লাভের স্মৃতি ইতিহাসে অমলিন হয়ে আছে।

এমনকি অন্যান্য দল গঠিত প্রতিটি সরকারেও কিশোরগঞ্জে কোনো না কোনো রাজনীতিকের ঠাঁই হয়েছে।

আর এ কারণে এবারের নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় কিশোরগঞ্জের কোনো সদস্য না থাকার বিষয়টি কেউই মেনে নিতে পারছেন না। অথচ এবারের আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় কিশোরগঞ্জের একাধিক সদস্যকে দেখার স্বপ্ন নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল কিশোরগঞ্জবাসী।

ইতিহাস সাক্ষী দেয়, ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের প্রবাদ পুরুষ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলন-সংগ্রামের টালমাটাল দিনগুলোতে দলের সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যতবার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে অন্তরীণ হয়েছেন- ততবারই সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে কান্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

এমনকি সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিক্ষিপ্ত হলে তাঁর অবর্তমানে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায় গঠিত মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, কমরেড মণি সিংহ ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের সঙ্গে উপদেষ্টা মনোনীত হন কিশোরগঞ্জের অপর কৃতী রাজনীতিক মনোরঞ্জন ধর।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর নেতৃত্বে সংসদীয় সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারে সৈয়দ নজরুল ইসলাম শিল্পমন্ত্রী ও মনোরঞ্জন ধর আইনমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

সরকার গঠনের অব্যবহিত পর বঙ্গবন্ধু দল পুনর্গঠনে মনোযোগ দেন এবং ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। এ কাউন্সিলে সর্ব সম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জের দুই কৃতী রাজনীতিক সৈয়দ নজরুল ইসলাম সহ-সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাকশাল গঠিত হলে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাকশালের সহ-সভাপতি এবং জিল্লুর রহমান অন্যতম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন।

পরবর্তীতে জিল্লুর রহমান দীর্ঘদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুর পর কিশোরগঞ্জের অপর কৃতী রাজনীতিক সাবেক বিরোধী দলীয় উপনেতা, ডেপুটি স্পিকার ও স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

জাতীয় অন্য তিন নেতার সঙ্গে কারাগারে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র সদ্য প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র, সাধারণ সম্পাদক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া এ মাটির অপর কৃতী সন্তান ড. আলাউদ্দিন আহমেদ আওয়ামী লীগ সরকার প্রধানের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এক কথায় আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে গঠিত সকল সরকারের মন্ত্রী সভায় ও দলে কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তানদের ভূমিকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ ও দ্যুতিময় করেছে।

এ মাটির অপর রাজনীতিক মরহুম আসাদুজ্জামান খান আওয়ামী লীগের বিরোধী দলীয় নেতা ও পাট ও বস্ত্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার পর গঠিত খন্দকার মোশতাক সরকারের বন্দর ও জাহাজ চলাচল মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার অবদান অনেকটা ম্লান হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও জিয়াউর রহমান সরকারে মরহুম ডা. মো. ফজলুল করিম স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৯১ সালের খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারে এ বি এম জাহিদুল হক নৌ-পরিবহন উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে এরশাদের জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে গঠিত সরকারে মুজিবুল হক চুন্নু ভূমি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালে গঠিত বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট সরকারে কিশোরগঞ্জের রাজনীতিক ড. মো. ওসমান ফারুক শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সূত্র: যুগান্তর

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited