,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

পঞ্চগড়ে স্বামী নির্যাতিতা অসহায় জাহানারা সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা : পাশে নেই কেউ

Jahanara pic.নুরেহাবিব সোহেল,বোদা(পঞ্চগড়) : পঞ্চগড়ে স্বামী নির্যাতিতা অসহায জাহানারা তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। জনা যায়,জেলার আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের কিসমত রসেয়া গ্রামের দরিদ্র পিতা সুটমিয়ার কন্যা জাহানারা বেগমের সাথে ঠাকুরগাঁও জেলার দেবীপুর ইউনিয়নের শোল্টহরি গ্রামের নাসির উদ্দীনের পুত্র মকবুল হোসেনের বিয়ে হয় ০৫/০২/১৯৯৮ ইং সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঢাকার নারায়নগঞ্জে। সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে ভাড়া বাসায় তাদের সংসার জীবন শুরু হয়। এর কিছুদিন পরেই চলতে থাকে যৌতুক নিয়ে অত্যাচার ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন। বড় সন্তান ইমরান যখন জন্ম গ্রহন করে তখন পিতা হিসেবে মকবুল কোন ভুমিকা রাখেনি। এমনকি ছেলে এক নজর দেখতেও আসেনি। এভাবে কেটে যায় দুই বছর। ক্রমানয়ে ইমন ও ইসাদ নামের আরো দুই সন্তানের জননী তখন জাহানারা। পান থেকে চুন খোসলেই চলে শারীরিক নির্যাতন। জাহানারা জানায়, ভাত রাধতে দেরি হওয়াতে একদিন তার স্বামী মকবুল লোহার রড দিয়ে বেদম মারপিট করে হাত,পা ভেঙ্গে দেয়। মেরে ফেলার জন্য আমার মাথায় আঘাত করলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। প্রতিবেশিরা আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাতপাতালে নিয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে আমি হাসপাতালে বিছানায় হাত পায়ে প্লাস্টার ও মাথায় ১৪টি সেলাই নিয়ে ব্যথায় কাতরাতে থাকি। দীর্ঘদিন হাপাতালে চিকিৎিসা চলাকালীন সময়ে মকবুল স্ত্রী জাহানারার খোঁজ নিতেও আসেনি বলে জানায় সে।সুস্থ্য হয়ে ভাড়া বাসায় ফিরে জাহানারার জীবন সংগ্রামের আরেক অধ্যায় শুরু হয়। স্বামী মকবুলের খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারে সাবিনা ও আছমা নামের আরো দুই মহিলাকে মকবুল বিয়ে করে ভিন্ন ভিন্ন জায়গাতে গোপনে তাদের সাথে বসবাস করে । এনিয়ে স্বামীকে প্রশ্ন করলে সন্তানদের সামনেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতন করে। এর কিচুদিন পর ওই দুই মহিলাকে টাকা দিয়ে তালাক দিয়ে দেয়। দেশের বাড়ী পঞ্চগড় ঈদে বেড়াতে এলে আমিনা নামের এক মহিলার প্রেমে পড়ে। শুরু হয় সংসারে চরম অশান্তি।দাম্পত্য জীবনে জাহানারা নিদারুন কষ্ট সহ্য করে মকবুলের সাথে সংসার করে আসলেও ঠিকমত সংসারের খরচের টাকা সে পেতনা। পরনারী আসক্ত মকবুল তাকে তালাক দেবার জন্য নানা হুমকি দিতে থাকে। তিন সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে স্বামীর সংসারে পরে থেকে অনেকটা নিরুপায় হয়ে নারায়নগঞ্জ নারী ও শিশু দমন ট্রাইবুনালে জাহানারা বাদী হয়ে স্বামী মকবুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৪০/২০১১ইং। দীর্ঘদিন মামলা চলার পরে ২৭/১১/২০১৭ইং তারিখে মকবুল বাদী হয়ে স্ত্রী জাহানারাসহ কয়েক জন কে আসামী করে একটি চুরির মামলা দায়ের করে বলেও জানায় জাহানারা। চুরির মামলা দেয়ার কারন জানতে চাইলে সে জানায়, আমার দায়ের করা মামলাটি তুলে নেবার জন্যই তার স্বামী মকবুলের এই অপ কৌশল। তিনি আরো জানান,আমিনা বেগমকে বিয়ে করার জন্য মকবুল তাকে এক তরফা তালাক দেয়। এর পরে আমিনাকে বিয়ে করে গ্রামের বাড়ী ঠাকুরগাঁও শোল্টহরি নিয়ে উঠায়। এব্যাপারে মকবুলের বড় সন্তান ইমরান জানায়, মায়ের সাথে অবিচার করেছে আমার পিতা মকবুল। সংসারে কখনো শান্তি দেখিনি। আমরা তিন ভাই পিতার আদর থেকে বরাবর বঞ্চিত হয়ে এসেছি। এখন আমাদের বসত ভিটাতে স্থান নেই। অথচ আমার দুই ভায়ের নামে গ্রামের বাড়ীর বসত ভিটা দলিল আছে। অভিযোগের বিয়য়ে মকবুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বর্তমান স্ত্রী আমিনা বেগম ফোন রিসিভ করে জানায়, আমার স্বামী মকবুল আমাকে বিয়ে করেছে বছর দুয়েক আগে এখন আমি তার সন্তানের মা হতে চলেছি। জাহানারার বিয়য়ে সে আরো জানায়, সে যদি এতই ভালো তবে কেন এত বছর স্বামীকে ধরে রাখতে পারেনি। মকবুল আমাকে পাঁকাবাড়ী করে দিয়েছে এবং প্রতিমাসে যা আয় করে খরচের টাকা রেখে বাকী সম্পূর্ন টাকা আমাকে বিকাশ করে পাঠায়। জাহানারা নিজেই একজন খারাপ প্রকৃতির মহিলা বলেও সে জানায়। এব্যাপারে জাহানারার প্রতিবেশি সমাজ সেবক জহিরুল ইসলাম জানায়,দেবীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেল হোসেনের নের্তৃত্বে মকবুল-জাহানারার বিষয়টি সমাধানের জন্য আপোষের জন্য বসে ছিলাম। বৈঠকে জাহানারার দাবী ছিল পাঁচলক্ষ টাকা দিলে সে মামলা তুলে নিবে। আর মকবুল একলক্ষ টাকা দিতে চেয়েছিল। টাকার পরিমান ব্যাপক ব্যবধান থাকার কারনে সমাধানটি ভেস্তে যায়। তিনি মকবুলের দৃষ্টান্তমুলুক শাস্তি দাবী করেন। এ অবস্থায় অসহায় জাহানারা নারীবাদী সংগঠনগুলোর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে জাহানারা।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited