সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

যবিপ্রবিকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে ‘জঙ্গিগোষ্ঠী’

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : 8:39 pm, মঙ্গলবার, ৩ মে, ২০১৬

জঙ্গিগোষ্ঠীসহ ক্যাম্পাসের বাইরের শক্তি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (যবিপ্রবি) অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে শিক্ষার্থীদের আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার।

তিনি উল্লেখ করেছেন, আলোচনা ছাড়া লক্ষ্যহীন আন্দোলন করে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার এসব কথা বলেন। সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার ঘটনাক্রম উল্লেখ করে বলেন, ৮ ডিসেম্বর’১৫ একনেক’র সভায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। এরপর যখন যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্পের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ শুরু করে তখনই ঘটে একটি অঘটন। ১০ ডিসেম্বর কর্মচারী বাদল ও শিক্ষার্থীরা বিরোধ ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অথচ কর্মচারী-শিক্ষার্থীদের পূর্বের বিরোধ নিয়ে ১২ ডিসেম্বর মীমাংসা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আলোচনার টেবিলে না গিয়ে শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি ভিন্নখাতে নেয়ায় কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

১০ ডিসেম্বরের মারামারির ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটি গত ৯ এপ্রিল তাদের প্রতিবেদন যবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের কাছে উপস্থাপন করে। প্রতিবেদনের জিইবিটি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র নাসির উদ্দীন বাদলকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের ও জেষ্ঠ্য সিনিয়র নিরাপত্তা প্রহরী বদিউজ্জামান বাদলকে চাকরি থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান কামাল ও জিইবিটি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রাশিদুজ্জামান রাজনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছর বহিষ্কার, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র  রুমেল পারভেজ ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাজেদুর রহমান শপুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। রিজেন্ট বোর্ড এই সব সুপারিশ গ্রহণ করে সকলকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে পরবর্তী সভায় চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

যবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার আরও জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য আত্মপক্ষ সমর্থন ও আলোচনার সুযোগ রাখা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের বহিষ্কারের ব্যাপারে আত্মপক্ষ গ্রহণের সেই সুযোগ না নিয়ে ফের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে। আর এর নেপথ্যে যবিপ্রবির সাবেক শিক্ষক (যিনি বর্তমানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত) মামুনুল করিম রয়েছেন। এছাড়া জঙ্গিগোষ্ঠীরও ইন্ধন রয়েছে। ফলে ১৭ দিন ধরে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর পরও তারা আন্দোলন থেকে আলোচনার টেবিলে না আসায় গ্রীষ্মকালীন ছুটি এগিয়ে এনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা হয়েছে।

যবিপ্রবি উপাচার্য এক প্রশ্নের জবাবে জানান, স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা ছাত্র নাসির উদ্দীন বাদল জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতোপূর্বে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, শহীদ মিনার নির্মাণে ওই ছাত্র বিরোধিতা করার চেষ্টা করেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় আশপাশ এলাকায় ছাত্রমেসগুলোতে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে বিষয়টি প্রশাসনকে জানাবেন বলেও উপাচার্য বলেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যবিপ্রবি ট্রেজারার প্রফেসর শেখ আবুল হোসেন, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবিব, প্রফেসর ড. আনিসুর রহমান, ডিন জিয়াউল আমিন, ড. মশিউর রহমান প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com