বিএনপি-জামায়াত প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করে সরকার পতনে ব্যর্থ হয়ে এখন গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শনিবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে এ অভিযোগ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করে সরকার পতনে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে। তারা বেছে বেছে মানুষ হত্যা করছে। বিএনপি-জামায়াত দেশের উন্নয়ন চায় না। হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংস ছাড়া তারা আর কিছু পারে না। আর আওয়ামী লীগ জাতির পিতার নেতৃত্বে স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা দেশের উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা পূরণ করতে পারেননি। ৭৫-এ তাকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়। এরপর স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতায় আসে। দেশের উন্নয়নের জন্য এরা কোনো কাজ করেনি।
শেখ হাসিনা বলেন, এই দেশের মানুষের জন্য আমার বাবা-মা-ভাই-বোন সবাই জীবন দিয়ে গেছেন। আমি সব হারিয়েছি, আমার তো আর হারাবার কিছু নেই। চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। এখন এদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নকে অনেকে বিস্ময় বলেন, আমি বলি এটি বিস্ময় নয়, বিশ্বাস। জনগণের প্রতি বিশ্বাস। এই বিশ্বাস আছে বলেই দেশে উন্নতি করতে পারছি; নিয়ত ভালো বলেই যেখানেই হাত দিচ্ছি সেখানেই সাফল্য অর্জন করছি।’
বিএনপি-জামায়াত পদ্মাসেতু নিয়ে যদি ষড়যন্ত্র না করতো তবে এ সেতুর কাজ এতো দিনে আরও এগিয়ে যেতো বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি করে ভাগ্য গড়তে আসিনি। আমি জাতির পিতার কন্যা। রাজনীতি করছি নিজের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে। বাকিটা জীবন সেটাই করে যাব।’
স্বাস্থ্যখাতে তার সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখাতে উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আরও তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ করছি। এছাড়া প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে। গণমুখী স্বাস্থ্য নীতি দিয়েছিলাম, সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। এখন এমন সময় এসেছে যেখানে নার্সরাও পিএইচডি করতে পারবেন, আমরা সে সুযোগ করে দিয়েছি।
‘বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায়-জেলায় সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। উচ্চ শিক্ষাপর্যন্ত মেধাবৃত্তি দিয়ে যাচ্ছি ১ কোটি ৭০ লাখ ছাত্র-ছাত্রীকে। আজকে বই-খাতা কিনতে হয় না, আমরা সবই দিচ্ছি। দেশে এখন ৩ কোটি ৮৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য নিরাপত্তা হয়েছে। মানুষের চাহিদা বদলে গেছে কারণ, পেটে খাবার আছে। এখন মানুষ বিদ্যুৎ চায়, স্কুল চায়- আমরা তা করছি।’
‘আমাদের লক্ষ্য দেশের সুষম উন্নয়ন, সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় গোপালগঞ্জবাসী বৈরিতার শিকার ছিল। অবহেলিত ছিল। সেটি হয়েছিল একটি বিশেষ কারণে। সে সময় বাজেটে টাকা দেওয়া হতো, তবে কাজ ও উন্নয়ন হতো না। এক সময় এখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
নতুন প্রতিষ্ঠিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, আশা করি এই চিকিৎসাকেন্দ্র মানবসেবায় অবদান রাখবে। আমি আরেক দিন এসে এখানে চোখ দেখিয়ে যাব।
এর আগে, গোপালগঞ্জ সদরে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একসঙ্গে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।
এগুলোর মধ্যে ৭টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ৫টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
তার আগে, সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে প্রথমেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিববুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে বিকেল ৩টায় কোটালিপাড়া যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজ মাঠে সুধী সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধান সম্পাদক:- তোফায়েল হোসেন তোফাসানি, ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (প্রা:) লি: কর্তৃক প্রকাশিত একটি অনলাইন পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থা। অফিস- সি-৫/১, ছায়াবীথি, সাভার, ঢাকা-১৩৪০।ঢাকা অফিস- বাড়ি নং-১, রোড-২৮, সেক্টর-৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
ইউএসএ অফিস- ২১৬২৮ ১৩৬ এভিনিউ ষ্প্রিংফিল্ড গার্ডেন, নিউইয়র্ক- ১১৪১৩, ইউএসএ। ফোন- ০২-৭৭৪১৯৭১, সেল- +৮৮০১৭১১০৭০৯৩১, +৮৮০১৩০০৫৫৫৪৪০, ই-মেইল- cninewsdesk24@gmail.com, news@cninews24.com