
বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা কমেছে। তবে বেড়েছে নিষ্পত্তির পরিমাণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই ২০১৫-ফেব্রুয়ারি ২০১৬) এলসি খোলা কমেছে ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তবে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় নিষ্পত্তি বেড়েছে ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এই সময়ে জ্বালানি তেল ও খাদ্যপণ্য আমদানির এলসি বেশি কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি_ এই ৮ মাসে পণ্য আমদানিতে এলসি খোলা হয়েছে ২ হাজার ৭৫৭ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৮০৪ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। অন্যদিকে, এই সময়ে ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছে ২ হাজার ৬৮৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৫৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ডলার।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সময়ে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেল আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার অনেক কমে গেছে। তবে শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র খোলা বেড়েছে। ৮ মাসে খাদ্যপণ্যের মধ্যে চাল ও গমের আমদানি ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৮০ কোটি ৭১ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১২১ কোটি ৪১ লাখ ডলার। সেই হিসাবে খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা কমেছে ৩৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই সময়ে চাল ও গম আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয় ৮২ কোটি ২৪ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯৩ কোটি ৯ লাখ ডলার।
আলোচ্য সময়ে পেট্রোলিয়াম তথা জ্বালানি তেল আমদানির ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪০ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই পণ্যটির এলসি খোলা হয়েছিল ২৪৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এই সময়ে পেট্রোলিয়ামপণ্যের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬৯ কোটি ৭৩ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ দশমিক ৫৪ শতাংশ কম।
অর্থবছরের ৮ মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ২৯৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের, আগে যা ছিল ২৬৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। সেই হিসাবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপত্র খোলা বেড়েছে ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আর এই সময়ে ২২১ কোটি ২৪ লাখ ডলারের যন্ত্রপাতি আমদানি নিষ্পত্তি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৯১ কোটি ৬১ লাখ ডলার। এই হিসাবে নিষ্পত্তি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। শিল্পের কাঁচামালের আমদানি ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তি বেড়েছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। কাঁচামাল আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১ হাজার ৮৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৫৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আর এই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৫৬ কোটি ১৮ লাখ ডলারের, যা আগে ছিল ১ হাজার ১৩ কোটি ২৪ লাখ ডলারের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে দেশে প্রচুর পরিমাণ খাদ্য উৎপাদিত হয়েছে। আর বর্তমানে ফসলে বিরূপ প্রভাব পড়ার মতো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। তাই চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি তেল আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার অনেক কমে গেছে। বিগত দুই বছরে আমদানিতে ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। অবকাঠামোগত অনুন্নয়ন এবং বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় কয়েক বছর যাবৎ শিল্পের জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ধস নেমেছিল। তবে আলোচ্য সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি বাড়লেও এর অধিকাংশই এসেছে বিদ্যুৎ খাতের জন্য।