দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বাজারে বেড়েছে নারিকেল ও গুড়ের চাহিদা। উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ নারিকেলের তৈরী বিভিন্ন প্রকার নাড়–ু ও মোয়া তৈরির উপকরণ কিনতে বাজারে ভিড় করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বাড়িতে বাড়িতে চলছে পূজার প্রস্তুতি। আর এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে নারিকেল ও গুড়ের চাহিদা।
রাণীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী গফুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে নারিকেল আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে প্রতি পিস নারিকেলের দাম ১২০ টাকা থেকে কমে ১০০ টাকায় নেমেছে। ফলে পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে এসে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা। তবে দেশি ও ভারতীয় আখের গুড়ের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে দেশি আখের গুড় প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ভারত থেকে আমদানি করা আখের গুড় ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল শনিবার উপজেলার হাট বাজার ঘুড়ে দেখা গেছে, নারিকেল ও গুড়ের দোকানগুলো দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের নারিকেল ও গুড়। কোথাও বড় পাত্রে রাখা হয়েছে দেশি আখের গুড়, আবার কোথাও বিক্রি হচ্ছে ভারত থেকে আমদানি করা গুড়। পূজার কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী এসব উপকরণ কিনছেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দুর্গাপুজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারিবারিক মিলন, আনন্দ, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও নানা সামাজিক আয়োজন। পূজার দিনগুলোতে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের আপ্যায়নে ঘরে তৈরি বিভিন্ন প্রকার নাড়–, মোয়া ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়।
উপজেলা বাজারে নারিকেল ও গুড় কিনতে আসা স্বপন বলেন, 'আগামী শুক্রবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে আমাদের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। তাই উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে বাজারে নারিকেল ও গুড় কিনতে এসেছি। গতবারের তুলনায় এবার নারিকেলের দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে।
এতে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ হয়েছে।' আরেক ক্রেতা সম্বু সাহা বলেন, 'আমাদের পুজার খাবারের মধ্যে নারিকেলের নাডুর বিশেষ কদর রয়েছে। এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা পুজার আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে। বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিরা আসেন। তাঁদের আপ্যায়নের জন্য বিভিন্ন প্রকার নাডু ও মোয়া তৈরি করা হয়। তাই পুজার আগে নারিকেল ও গুড় কিনতে বাজারে এসেছি। দাম সহনীয় থাকলে পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে সুবিধা হয়।'
উপজেলার আর এব নারিকেল ব্যবসায়ী সুজন বলেন, 'দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে নারিকেলের বেচাকেনা আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী ক্রেতারা নাড়– ও মোয়া তৈরির জন্য বেশি নারিকেল কেনেন। ভারত থেকে নারিকেল আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং দামও কমেছে।
আগে যে নারিকেল ১০০ টাকা করে বিক্রি করেছি, এখন তা ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। দাম কম থাকায় ক্রেতারাও কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন। আর এক গুড় ব্যবসায়ী বলেন, 'বর্তমানে গুড়ের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা দেশি আখের গুড় প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ভারত থেকে আমদানি করা আখের গুড় ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এ কারণে এ সময়ে আমাদের বেচাকেনাও অন্য সময়ের তুলনায় বেশি হয়। এখন পর্যন্ত দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী গুড় কিনছেন। পূজা ঘনিয়ে এলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।'
প্রধান সম্পাদক:- তোফায়েল হোসেন তোফাসানি, ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (প্রা:) লি: কর্তৃক প্রকাশিত একটি অনলাইন পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থা। অফিস- সি-৫/১, ছায়াবীথি, সাভার, ঢাকা-১৩৪০।ঢাকা অফিস- বাড়ি নং-১, রোড-২৮, সেক্টর-৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
ইউএসএ অফিস- ২১৬২৮ ১৩৬ এভিনিউ ষ্প্রিংফিল্ড গার্ডেন, নিউইয়র্ক- ১১৪১৩, ইউএসএ। ফোন- ০২-৭৭৪১৯৭১, সেল- +৮৮০১৭১১০৭০৯৩১, +৮৮০১৩০০৫৫৫৪৪০, ই-মেইল- cninewsdesk24@gmail.com, news@cninews24.com