প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৩, ২০২৬, ২:০৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ২, ২০২৬, ১১:১৮ এ.এম
তদন্তে নোটিশ গোপনের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে তিন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুননাহারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্তকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্তের নোটিশ ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুননাহারের পাশাপাশি তিন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা—নীশিত কুমার বিশ্বাস,সৈয়দ মোদাচ্ছের হোসেন ও মেহাম্মাদ আব্দুস সালাম মণ্ডলের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষকরা জানান, তদন্তের নোটিশ অভিযুক্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক তাপস কুমার অধিকারী। নোটিসে ভুক্তভোগী শিক্ষকদেরকে তদন্তের দিন উপস্থিত করতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু দুর্নীতিবাজ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বাঁচাতে ৩ জন সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কেন প্রধান শিক্ষককেই নোটিশের কপি দেয়নি বলে দাবি করেন তারা। তাদের প্রশ্ন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার মাধ্যমেই যদি অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের ডাকা হয়, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্ত কীভাবে সম্ভব?
অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত-সংক্রান্ত নোটিশ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রকাশের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বার বার মৌখেক নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তা বাস্তবায়ন করেননি। ফলে অধিকাংশ শিক্ষক তদন্তের বিষয়টি জানতেই পারেননি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শিক্ষা অফিস থেকে নিয়মিত বিভিন্ন দাপ্তরিক চিঠি, সভার নোটিশ ও নির্দেশনা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রকাশ করা হলেও শুধু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের নোটিশ প্রকাশ করা হয়নি। এতে ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করে তদন্তে উপস্থিতি সীমিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
খোদ এক সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অভিযোগকারীদের কাছে বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের চিঠি শিক্ষা অফিস থেকে গ্রুপে দেওয়া যাবে না। তবে অভিযোগকারী শিক্ষকরা বলছেন, অন্য সব সরকারি নির্দেশনা যখন একই মাধ্যমে প্রচার করা হয়, তখন শুধু এই তদন্তের নোটিশ বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।
তাদের আরও অভিযোগ, শিক্ষা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি জানানো হলেও অধিকাংশ অভিযোগকারী ও সাক্ষীকে অবহিত করা হয়নি। কয়েকজন শিক্ষককে ফোনে জানানো হলেও শিক্ষা কর্মকর্তার ভয়ে তারা তদন্তে উপস্থিত হননি বলেও দাবি করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তদন্তের দিন মাত্র ১৮ থেকে ২০ জন প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, লিখিত বক্তব্য নেওয়ার সময় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বারবার কক্ষে প্রবেশ করে কে কী লিখছেন তা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করেন। তদন্ত কর্মকর্তার কক্ষেও তাকে একাধিকবার দেখা গেছে।
অফিসের নিচে থাকা কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, এটি একটি "পাতানো তদন্ত"। তাদের দাবি, উপজেলার শতাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারতেন। কিন্তু অধিকাংশকে না ডেকে শিক্ষা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অল্পসংখ্যক শিক্ষককে উপস্থিত রাখা হয়েছে। উপস্থিতদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষা কর্মকর্তার হয়ে তদবির করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। শিক্ষক সবুর বলেন, প্রায় ১শ শিক্ষক উপস্থিত থাকার কথা কিন্তু দেখেন তারাই উপস্থিত আছেন যারা শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষের লোক।
অভিযোগকারী শিক্ষকরা মনে করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালিত হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক:- তোফায়েল হোসেন তোফাসানি, ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (প্রা:) লি: কর্তৃক প্রকাশিত একটি অনলাইন পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থা। অফিস- সি-৫/১, ছায়াবীথি, সাভার, ঢাকা-১৩৪০।ঢাকা অফিস- বাড়ি নং-১, রোড-২৮, সেক্টর-৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
ইউএসএ অফিস- ২১৬২৮ ১৩৬ এভিনিউ ষ্প্রিংফিল্ড গার্ডেন, নিউইয়র্ক- ১১৪১৩, ইউএসএ। ফোন- ০২-৭৭৪১৯৭১, সেল- +৮৮০১৭১১০৭০৯৩১, +৮৮০১৩০০৫৫৫৪৪০, ই-মেইল- cninewsdesk24@gmail.com, news@cninews24.com
Design & Development By HosterCube