বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) বলেছে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য সময়সীমা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের উচিত সেই সময়কে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং ডব্লিউটিও’র সাধারণ নিয়মের আওতায় পরিচালনার প্রস্তুতি জোরদারের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো।
বাসস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডব্লিউটিও’র উপ-মহাপরিচালক শিয়াংচেন ঝাং বলেন, ‘উত্তরণ-প্রক্রিয়ায় থাকা এলডিসি দেশগুলোর জন্য মসৃণ ও টেকসই রূপান্তর নিশ্চিত করতে ডব্লিউটিও সদস্যরা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ডব্লিউটিও’র ১৩তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলডিসি থেকে উত্তরণকারী দেশগুলোকে ডব্লিউটিও’র বিভিন্ন বিধি-বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণ করে, তবে এই নিয়মের সাথে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় পাবে।
ঝাং আরো বলেন, ‘উত্তরণের সুনির্দিষ্ট সময় যাই হোক না কেন, এই রূপান্তরের সময়টি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নয়ন এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।’
তিনি আরো বলেন, এই সময়কে এমনভাবে কাজে লাগাতে হবে যাতে দেশটি পূর্বানুমানযোগ্য ও টেকসই উপায়ে ডব্লিউটিও’র সাধারণ নিয়মের আওতায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
ডব্লিউটিও’র এই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন গতিশীলতা প্রদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন অব্যাহত রাখার জন্য দেশটি ভালো অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, রূপান্তর সময়ে যেখানেই চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হবে, সেখানে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে নির্দিষ্ট উদ্বেগগুলো সমাধানের জন্য বাণিজ্য অংশীদারদের সাথে গঠনমূলক আলোচনার সুযোগ রয়েছে।
বাণিজ্য খাতে অগ্রাধিকারের বিষয়ে ঝাং বলেন, বাংলাদেশের উচিত রপ্তানি গন্তব্য বহুমুখীকরণ এবং রপ্তানির স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার ওপর মনোযোগ দেওয়া, বিশেষ করে যেসব খাত উত্তরণের পর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে সেসব বিষয়ে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মূল্য সংযোজন বৃদ্ধির নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় আরো মসৃণ অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
এর আগে, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত করার আবেদন করেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশের এই আবেদনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো সাম্প্রতিক এক চিঠিতে সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো জানান, কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচিত বাংলাদেশের অনুরোধকৃত এই সময়সীমা বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা।
সিডিপি জানায়, এলডিসি উত্তরণের তিনটি মানদ-েই বাংলাদেশ নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে এবং নিকট ও মধ্যম মেয়াদে সেই সীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি খুবই কম।
তবে কমিটি উল্লেখ করে, বর্ধিত সময়ে কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো মোকাবিলার জন্য অভ্যন্তরীণ সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা জরুরি।
সিডিপির মতে, অগ্রাধিকারমূলক সংস্কারের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর রাজস্ব বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ জোরদার করা, উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়ন, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাতকে প্রস্তুত করা।
কমিটি আরো উল্লেখ করে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘœ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন বাংলাদেশের উত্তরণ-পরবর্তী প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সিডিপি জোর দিয়ে বলেছে যে, এই সময়সীমা বৃদ্ধিকে সংস্কার বিলম্বিত করার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়, বরং এটিকে সংস্কারের গতি ত্বরান্বিত করার এবং এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে একটি মসৃণ, টেকসই ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করার চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
প্রধান সম্পাদক:- তোফায়েল হোসেন তোফাসানি, ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (প্রা:) লি: কর্তৃক প্রকাশিত একটি অনলাইন পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থা। অফিস- সি-৫/১, ছায়াবীথি, সাভার, ঢাকা-১৩৪০।ঢাকা অফিস- বাড়ি নং-১, রোড-২৮, সেক্টর-৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
ইউএসএ অফিস- ২১৬২৮ ১৩৬ এভিনিউ ষ্প্রিংফিল্ড গার্ডেন, নিউইয়র্ক- ১১৪১৩, ইউএসএ। ফোন- ০২-৭৭৪১৯৭১, সেল- +৮৮০১৭১১০৭০৯৩১, +৮৮০১৩০০৫৫৫৪৪০, ই-মেইল- cninewsdesk24@gmail.com, news@cninews24.com