প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১:৫৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩, ২০২৬, ১১:১৬ এ.এম
কাজিপুরে তীব্র গরমে পুড়ছে জনপদ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে তীব্র রোদ ও অসহনীয় গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড- তাপদাহে ঘরে-বাইরে কোথাও যেন স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে রাস্তাঘাট, বাজার, দোকানপাট ও কর্মস্থল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ফলে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল তুলনামূলকভাবে কমে গেছে।
বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, শ্রমজীবী, দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দোকানদার ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রচন্ড- গরমের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। অনেকে অল্প সময় কাজ করেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। দুপুরের পর থেকে অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে। গরমের তীব্রতা বাড়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের কষ্টও বেড়েছে। তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। কাজিপুর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। প্রচন্ড রোদ ও গরমের কারণে অনেক ক্রেতা ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা কমে গেছে।
অন্যদিকে, ভয়াবহ গরমের কারণে কাজিপুর পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সিলিং ফ্যান ও টেবিল ফ্যানের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফ্যান, টেবিল ও ফ্যানের বিক্রি বেড়েছে। কোরবানির ঈদের দিন থেকেই গরম তুলনামূলকভাবে প্রতিদিনই বাড়ছে। ফলে মানুষ গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে ফ্যান কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। মেঘাই সমবায় সুপার মার্কেটের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী এরশাদ হোসেন জানান, তীব্র গরমের কারণে বিদ্যুৎ সামগ্রীর বিক্রি আগের চেয়ে বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ফ্যানসহ গরমে ব্যবহারযোগ্য বৈদ্যুতিক সামগ্রীর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। গরম যত বাড়ছে, মানুষ তত বেশি ফ্যান ও বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্ট পণ্য কিনছেন।
গরমের প্রভাব পড়েছে কাজিপুর পৌরসভা সুপার মার্কেট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরও। পৌরসভা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রচন্ড গরমে স্বাভাবিক কাজকর্মে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সোনামুখী বাজারে চা বিক্রেতা বাবলু জানান, গরমের কারণে ঠিকমতো কাজ করা যাচ্ছে না। আগুনের তাপের সঙ্গে বাইরের গরম মিলিয়ে কাজ করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে এই ভয়াবহ গরম থেকে কিছুটা রেহাই পাওয়া যেতে পারে। পৌরসভার আলমপু্র গ্ৰামের আল আমিন জানান, গরমের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘরে থাকা দায় হয়ে গেছে। তীব্র গরমের কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক বিঘ্নত ঘটছে। অতিরিক্ত গরমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না।
স্থানীয়রা জানান, গরমের সঙ্গে লোডশেডিং যোগ হওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেড়েছে। যমুনার চরাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফ্যান বন্ধ থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ চরম কষ্টে পড়ছেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গরমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। দিনের বেলায় রোদে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। স্থানীয়দের দাবি, গরমের এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সাধারণ মানুষ এখন বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের আশা, বৃষ্টি হলে তীব্র গরম থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে এবং জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে। #
প্রধান সম্পাদক:- তোফায়েল হোসেন তোফাসানি, ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (প্রা:) লি: কর্তৃক প্রকাশিত একটি অনলাইন পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থা। অফিস- সি-৫/১, ছায়াবীথি, সাভার, ঢাকা-১৩৪০।ঢাকা অফিস- বাড়ি নং-১, রোড-২৮, সেক্টর-৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
ইউএসএ অফিস- ২১৬২৮ ১৩৬ এভিনিউ ষ্প্রিংফিল্ড গার্ডেন, নিউইয়র্ক- ১১৪১৩, ইউএসএ। ফোন- ০২-৭৭৪১৯৭১, সেল- +৮৮০১৭১১০৭০৯৩১, +৮৮০১৩০০৫৫৫৪৪০, ই-মেইল- cninewsdesk24@gmail.com, news@cninews24.com
Design & Development By HosterCube