রাজবাড়ীতে প্রবীণ দুজন সাংস্কৃতিক সংগঠক রাজবাড়ী থিয়েটারের সভাপতি আসাদুজ্জামান চৌধুরী বাবলা (৭০) ও বিশ্বভরা প্রাণ রাজবাড়ী শাখার সভাপতি আতাউর রহমান (৬৪) ওপর হামলা চালিয়েছে বখাটেরা। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে রাজবাড়ী শহরের কাজীকান্দা চোইরাপাড়া এলাকায় তারা হামলার শিকার হন। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গণের ব্যক্তিত্বরা। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরাও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় রবিবার অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সচেতন মহল।
জানাগেছে, শহরের বেড়াডাঙ্গার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান চৌধুরী বাবলা দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। ছাত্রজীবনে রাজনীতিও করেছেন। জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গণে তাঁর অবদান যেমন রয়েছে, পরিচিতিও ব্যাপক। মাঝেমধ্যে লেখালেখিও করেন। আর শহরের শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমান অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনিও দীর্ঘদিন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত।
আসাদুজ্জামান চৌধুরী বাবলার দেওয়া তথ্যমতে, রাজবাড়ী থিয়েটারের উদ্যোগে একটি গানের বিদ্যালয় স্থাপনের গত শুক্রবার থিয়েটার কার্যালয়ে মিটিং করে আতাউর রহমানকে নিয়ে তাঁর বেড়াডাঙ্গার বাসায় যান। রাত হয়ে যাওয়ায় আতাউর রহমানকে এগিয়ে দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। ঘুটঘুটে অন্ধকারে টর্চ জ্বেলে পথ চলছিলেন। বেড়াডাঙ্গা থেকে কাজীকান্দার পাশে চোইরাপাড়া দিয়ে যাওয়ার সময় দুই যুবক তাদের উদ্দেশে বলে ওঠে, ‘এই টর্চ মারে কে?’
ওই যুবকদের ‘তুই-তোকারি’ করে কথা বলার প্রতিবাদ করেন আসাদুজ্জামান চৌধুরী বাবলা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ওই যুবকদের তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে তারা চৌধুরী বাবলাকে কিলঘুষি মারতে থাকে। আতাউর রহমান মারধরে নিষেধ করলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এ সময় তাদের দুজনের মোবাইল ফোনই কেড়ে নেয় হামলাকারীরা। পরে আরও পাঁচ-ছয়জন এসে তাদের মারতে শুরু করে।
হামলার শিকার দুজনের চিৎকারে এলাকার কিছু লোক এগিয়ে আসেন। এ সময় বখাটেরা মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে চলে যায়। তবে হামলাকারীদের কাউকে চিনতে পারেননি জানিয়ে আসাদুজ্জামান চৌধুরী বাবলা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে এই এলাকায় বড় হয়েছি। সবকিছু আমার চেনা। কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করিনি। অন্যায় হলেই প্রতিবাদ করেছি। এ ঘটনায় আমি স্তম্ভিত।’
বিষয়টি পুলিশে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘থানায় অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না, তাই অভিযোগ করিনি।’
রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গণে প্রতিক্রিয়া :
রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমান বলেন, দলমত নির্বিশেষে আসাদুজ্জামান চৌধুরী সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তাঁর উপর হামলাকারীদের শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
রাজবাড়ী থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল হক কল্লোল বলেন, এ হামলা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
একই দাবি জানিয়ে রাবেয়া কাদের স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, বাবলা চৌধুরী একজন সজ্জন ব্যক্তি। সব ভালো কাজের সঙ্গে তিনি থাকেন। জেলার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তার ওপর এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ করছেন তারা।
এ ঘটনায় আরও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ্যাড. খান মোহাম্মদ জহুরুল হক, রাজবাড়ী রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি লিটন চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি আহসান হাবীব, রাজবাড়ী জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র শীল চন্দনসহ জেলার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, এ বিষয়ে কেউ লিখিত কোন অভিযোগ দায়ের করেনি। তারপরও অপরাধী সনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।