
নেত্রকোনার মদনের ফতেপুর ইউনিয়নের লাছারকান্দা গ্রাম। এ গ্রামের প্রভাবশালী পাঞ্জু মিয়া। স্বজনদের নামে বরাদ্দ নিয়েছে আশ্রয়ণের তিনটি ঘর। বরাদ্দের পর থেকে ঘরগুলো তার দখলে।
এর সাথে গুচ্ছগ্রামের জায়গা দখলে নিয়ে নির্মাণ করেছেন দোকান। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন বার বার অভিযোগ করলেও শুধু তদন্ত হয়, কিন্তু ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
আশ্রয়ণের তিনটি ঘর দখলসহ গুচ্ছগ্রামের জায়গা দখলে নিয়ে দোকান নির্মাণ করায় পাঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য বকুল মিয়া। কিন্তু অদৃশ্য কারণে নীরব রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভূমিহীনদের জন্য ফতেপুর গুচ্ছগ্রামে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। সেই প্রকল্পে দ্বিতীয় স্ত্রী নেহেরা আক্তারের নামে একটি ঘর বরাদ্দ নেয় পাঞ্জু মিয়া। ২০২০-২১ অর্থবছরে মুজিব শতবর্ষ প্রকল্পে খালাশাশুড়ি মমিনা আক্তারের নামে আরেকটি পাকা ঘর বরাদ্দ নেন তিনি।
একই অর্থবছরে জমি আছে ঘর নাই প্রকল্পের আরেকটি ঘর শ্যালক আলমের নাম বরাদ্দ নেন পাঞ্জু মিয়া। সেই ঘরে আবার বসবাস করছেন প্রথম স্ত্রী রোকয়া আক্তার। এর সাথে গুচ্ছগ্রামের জায়গা দখল নিয়ে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন তিনি। স্বজনদের নামে সবকটি ঘরেই তার দখলে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার ফতেপুর গুচ্ছগ্রামে গেলে দেখা যায়, পাঞ্জু মিয়া তার খালা শাশুড়ি মমিনা আক্তারের ঘরে বসবাস করছেন।
স্ত্রী নেহেরা আক্তারের নামে বরাদ্দের ঘর গুদাম হিসাবে ব্যবহার করছেন। রাস্তার পাশেই আবার জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করছেন।
এসময় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা জানান, পাঞ্জু মিয়ার প্রথম স্ত্রী মোমিনা আক্তার আশ্রয়ণের আরেকটি ঘরে বসবাস করছেন। এ নিয়ে বার বার অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয় না।
এ ব্যাপারে পাঞ্জু মিয়া জানান, গুচ্ছগ্রামে আসার পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, সাবেক চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আমি সুবিধা নিয়েছি। গুচ্ছগ্রামে আমার স্ত্রীর নামে যে ঘর আছে সেখানে লাকড়ি রেখেছি। খালাশাশুড়ি এলাকায় না থাকায় সেখানে আমরা বসবাস করছি। শ্যালকের নামে ঘরটিতে আমার প্রথম স্ত্রী রোকিয়া থাকে।
লাছারকান্দা ও ফতেপুর গুচ্ছগ্রামের সুবিধাভোগীরা জানান, পাঞ্জু মিয়ার বাড়ি ও জমিসহ সব কিছুই আছে। এর পরও তিনি ঘর বরাদ্দ পেয়েছে। গুচ্ছগ্রামের জায়গা দখল নিয়ে দোকান নির্মাণ করেছে। সংশ্লিষ্টদের ঘুষ দিয়ে সে এমন সুবিধা নিয়েছে বলে অভিযোগ করলেও কোনো কাজ হয় না।
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার তালুকদার জানান, পাঞ্জু মিয়া যে ঘর গুলো দখল করেছে তা আগের চেয়ারম্যানের দেওয়া। যারা তালিকায় আছেন কিন্তু ঘর পাচ্ছেন না এই, বিষয় নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলব।
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আলম মিয়া জানান, ফতেপুর গুচ্ছ গ্রামের ঘর দখল করে রাখার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অ্যাসিল্যান্ডকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ নূর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
প্রধান সম্পাদক:- তোফায়েল হোসেন তোফাসানি, ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (প্রা:) লি: কর্তৃক প্রকাশিত একটি অনলাইন পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থা। অফিস- সি-৫/১, ছায়াবীথি, সাভার, ঢাকা-১৩৪০।ঢাকা অফিস- বাড়ি নং-১, রোড-২৮, সেক্টর-৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
ইউএসএ অফিস- ২১৬২৮ ১৩৬ এভিনিউ ষ্প্রিংফিল্ড গার্ডেন, নিউইয়র্ক- ১১৪১৩, ইউএসএ। ফোন- ০২-৭৭৪১৯৭১, সেল- +৮৮০১৭১১০৭০৯৩১, +৮৮০১৩০০৫৫৫৪৪০, ই-মেইল- cninewsdesk24@gmail.com, news@cninews24.com