,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: স্বীকার বাসচালকের

সিএনআই নিউজ : ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের পিরিজপুর রুটে চলাচলকারী স্বর্ণলতা ভিআইপি পরিবহনের সেই বাসের চালক নূরুজ্জামান নূরু আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গত শনিবার রাতে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুনের খাসকামরায় সে ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেয়।আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে বাসচালক নূরু ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি কিশোরগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের একই তথ্য জানান। গতকাল রবিবার জেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সড়কপথে ধর্ষণসহ অপরাধ ঠেকাতে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।এদিকে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন গতকাল পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তানিয়ার মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তানিয়ার শরীরের ১০টি স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা বলা হয়েছে। গণধর্ষণ ও ভারী বস্তুর আঘাতে মাথা থেঁতলে দেওয়ার আলামত থাকার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

বাসচালকের জবানবন্দি : বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু তার জবানবন্দিতে নিজেকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বলেছে, সে নিজে, হেলপার লালন ও তার খালাতো ভাই বোরহান মিলে একে একে তানিয়াকে ধর্ষণ করে। এরপর একপর্যায়ে চলন্ত বাস থেকে তানিয়াকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেয়। পরে এক রিকশাচালক দেখে ফেলায় রক্তাক্ত তানিয়াকে আবার বাসে তুলে পিরিজপুর বাজারে নিয়ে চিকিৎসার নাটক করে তারা।

শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেওয়া জবানবন্দিতে নূরু বলেছে, ‘শেষ স্টপেজের যাত্রী তানিয়া বাসের সামনের দিকের সিটে বসা ছিলেন। ইয়ারফোন লাগিয়ে তিনি গান শুনছিলেন। অন্য এক যাত্রী আগের স্টপেজে নেমে যাওয়ার পর বাসটি খালি হয়ে যায়। পরে সে (নূরু) একটি স্থানে বাস থামিয়ে তার খালাতো ভাই বোরহানকে বাসে তুলে নেয়। এ সময় নূরু নিজেই বাস চালাচ্ছিল।

জবানবন্দিতে নূরু জানায়, প্রথমে তার খালাতো ভাই বোরহান হেলপার লালনের সহায়তায় তানিয়াকে ধর্ষণ করে। এরপর লালন বাসের চালকের আসনে গিয়ে বসে এবং সে তানিয়ার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায়। পরে লালনও একই কাজে লিপ্ত হয়। এরপর দুজন মিলে চলন্ত বাস থেকে তানিয়াকে রাস্তায় ফেলে দেয়। তখন তানিয়ার মাথা বাসের সঙ্গে প্রচণ্ড জোরে বাড়ি খায়। তানিয়াকে নিচে ফেলে দেওয়ার পর তারা বাজিতপুরের বিলপাড় গজারিয়া এলাকায় বাসটি থামায়।

নূরু আরো জানায়, তানিয়াকে এভাবে ফেলে যাওয়া নিয়ে তিনজনের মধ্যে তর্ক বাধে। এমন সময় কটিয়াদীর দিক থেকে একটি রিকশা এসে বাসের কাছে থামে। রিকশাচালক আহত ও রক্তাক্ত একটি মেয়েকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে তাদের চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধমকায়। পরে আবার তানিয়াকে রাস্তা থেকে বাসে তুলে তারা পিরিজপুর বাজারের দিকে যায়। নূরু আরো বলেছে, চিকিৎসা করাতে নিয়ে গেলে লোকজনকে দুর্ঘটনার কথা বলে বেঁচে যাওয়া যাবে মনে করে মৃতপ্রায় তানিয়াকে তারা পিরিজপুরে নিয়ে গিয়েছিল। পরে সেখান থেকে হেলপার লালন পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা : তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন সাক্ষী হলেন কটিয়াদী উপজেলার দড়ি চরিয়াকোনার রিকশাচালক জাকির হোসেন। গতকাল দুপুরে তিনি জানান, ঘটনার রাতে তিনি ২০০ টাকা ভাড়ায় তাঁর রিকশায় আট ব্যাগ চাল নিয়ে গজারিয়া বাজারে যাচ্ছিলেন। ওই সময় তিনি দূর থেকে একটি বাসকে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন।

একই সময় রিকশার হেডলাইটের আলোতে রাস্তায় বস্তার মতো কিছু একটা পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি এগিয়ে গিয়ে দেখেন, মুমূর্ষু অবস্থায় একটি মেয়ে রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছে। তিনি বাসের চালক ও হেলপারকে ধমকের সুরে চিকিৎসার জন্য দ্রুত নিয়ে যেতে বললে বাসের লোকজন মেয়েটিকে বাসে তুলে দক্ষিণে পিরিজপুরের দিকে চলে যায়।

ডিআইজির ঘটনাস্থল পরিদর্শন : তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ডিআইজি মামুন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক জাকির হোসেনের সাক্ষ্য নেন।

এরপর ডিআইজি মামুন পিরিজপুর বাজারে গিয়ে সততা ফার্মেসির মালিক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি যান বাজিতপুর থানায়। সেখানে তিনি রিমান্ডে থাকা মামলার প্রধান তিন আসামির একজন হেলপার লালন মিয়াসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একই সময় তানিয়ার ভাই শফিকুল ইসলাম সুজন, মামলার বাদী ও তানিয়ার বাবা মো. গিয়াসউদ্দিন এবং তাঁর এক ভাইকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের সংবাদ সম্মেলন : তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে গতকাল বিকেলে জেলা পুলিশ অফিসের সম্মেলনকক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান মিয়া ও পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আদালতে দেওয়া মামলার প্রধান আসামি বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুর জবানবন্দির বরাত দিয়ে নানা তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণে ও হত্যায় তিন অপরাধীর সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়। এদের মধ্যে বাসচালক ও হেলপারের কথা উল্লেখ করা হলেও অন্যজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিশেষ প্রস্তাব : গতকাল কিশোরগঞ্জ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইবনে সিনা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স (সেবিকা) শাহীনূর আক্তার তানিয়া গণধর্ষণ ও হত্যার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ধর্ষক-খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয় সভায়। এ ছাড়া তানিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি গণপরিবহনে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, অনলাইন ট্র্যাকার সংযোজন, মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের প্রস্তাব করা হয় এবং সভার রেজল্যুশনে তার উল্লেখও করা হয়।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সারোয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক শফিকুল আলম সরকার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি শাহজাহান লস্কর প্রমুখ।

সভায় শাহজাহান লস্কর জানান, স্বর্ণলতা ভিআইপি পরিবহনের কোনো রোড পারমিট নেই। তাঁদের সমিতি কিশোরগঞ্জ লাইনে এ বাসটি চালানোর অনুমতি দেয়নি। মালিক সমিতির আপত্তি দাখিলের পরও একরকম জোর করেই ঢাকা-বাজিতপুর লাইনে স্বর্ণলতা বাস চালানো হচ্ছিল।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে মহাখালী থেকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের পিরিজপুর রুটে চলাচলকারী স্বর্ণলতা নামক বাসে সেবিকা শাহীনূর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মো. গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে। তিনি ইবনে সিনা হাসপাতালের কল্যাণপুর ক্যাম্পাসে সিনিয়র স্টাফ নার্স (সেবিকা) পদে কর্মরত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, বি-১১৬/১ শিকদার টাওয়ার. বাসস্ট্যান্ড, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত : ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ( প্রা: ) লি:,
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
কপিরাইট : সিএনআই নিউজ ( নিউজ এজেন্সী )
Design & Developed BY PopularITLimited