,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

এদের জীবন কে রাঙাবে ?

সিএনআই নিউজ : শুরু হয়েছে পহেলা  বৈশাখ। নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় চলছে বৈশাখ উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি। কোথাও মাসব্যাপী মেলা, আবার কোথাও চৈত্রসংক্রান্তি থেকেই শুরু হয়েছে নানা ধরনের উৎসব। বৈশাখের এই সব মেলা আর উৎসব রাঙাতে মাটির তৈরী খেলনা একটি বড় জায়গা দখল করে আছে। গ্রামীণ জীবনে শিশুদের প্রধান পছন্দ হলো মাটির খেলনা। গ্রাম্যমেলার সেইসব মাটির তৈজসপত্র খেলনা তৈরিতে ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন নড়াইলের বিভিন্ন এলাকার পালপাড়ার মেয়ে-বধূরা। বৃষ্টিতে এ বছর মাটির এসব সামগ্রী তৈরিতে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেই শেষ মুহূর্তে রং করে  রঙিন করা হচ্ছে মাটির হাতি, ঘোড়া, মেম, বধূসহ নানা ধরনের পুতুল আর আম, কাঁঠালসহ নানা কারুকাজে মাটির তৈরি নানা ধরনের ব্যাংক। 

চৈত্র মাসজুড়েই মহাব্যস্ত থাকেন নড়াইলের কুমোরপল্লীর মৃৎশিল্পীরা। এ সময় পালবাড়ির সকলে মিলে এসব সামগ্রী তৈরি করেন বৈশাখী মেলার জন্য। মাটি এনে ভিজিয়ে মোলায়েম করে তা দিয়ে কোনোটি চাকায় ঘুরিয়ে আবার কোনোটি হাতের ছাঁচে তৈরি হয় নানা ধরনের খেলনা। এরপর ছুরি দিয়ে চেঁছে সঠিক আকৃতিতে এনে শুকিয়ে তার ওপর আবার অ্যারারুট পানির প্রলেপ দিয়ে মজবুত করে আবার শুকিয়ে পোড়ানো হয় চুল্লিতে। পোড়ানো খেলনার ওপর নানা ধরনের রং- কোনোটি একরঙা আবার কোনোটি একাধিক রঙে শেড দিয়ে রাঙাতে হয়। বড় খেলনা ব্যাংক আর ফলের গায়ে স্প্রে দিয়ে নিজের মনোর মতো রাঙান শিল্পীরা। রং শুকিয়ে গেলে বাজারজাত করা হয়। এতগুলো ধাপ পেরিয়ে কোনোটি ২ টাকা আবার ৫ টাকা, আকারে বড় হলে ২০/৩০ টাকায় বিক্রি হয়।

কুন্দসী পাল বাড়ির এইচএসসি পরীক্ষার্থী পিয়া পাল। বাড়িতে সকলের সাথে মাটির টিয়াপাখিতে একমনে রং করে  চলেছে। একপাশে মা আর অন্যপাশে সে। বৃষ্টিতে খেলনা শুকাতে সময় লেগেছে তাই দ্রুত কাজ শেষ করতে পরিবারের সকলের সাথে হাত মিলিয়েছে সে, রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ। 

পিয়া বলেন, পরীক্ষার ফাঁকে বাড়িতে বাবা-মা কে সাহায্য করছি, এর মধ্যে অন্যরকম আনন্দ, এটাই আমাদের পহেলা বৈশাখ, নতুন জামা কিংবা ভালো খাবার কোথায় পাব।

পালপাড়ায় বিভিন্নজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছরের অন্য সময়ে এসব মাটির সামগ্রী তেমন একটা বিক্রি হয় না তাই একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছে মাটির সামগ্রী তৈরির কাজ। মাটির কলস কিংবা ঘটের মতো গোল বস্তু তৈরিতে  চাকা লাগে, অধিকাংশ পালেরা পেশা পরিবর্তন করায় পালবাড়িতে চাকা খুবই কম। প্লাস্টিক, মেলামাইনসহ বিভিন্ন পণ্যের আগ্রাসনে হারিয়ে যেতে বসেছে মাটির তৈরি এই সব সামগ্রী।

নড়াইল সদরের দলজিত্পুর গ্রামের কার্ত্তিক পাল বলেন, বাপ-দাদার পেশা তাই বাধ্য হয়েই কাজ করছি, আগে মাটি কাঠ এগুলো ফ্রি পাওয়া যেত, এখন সবই কিনতে হয় এর উপর রং এর দামও বেড়েছে, এসব করে এখন আর কেউ টিকে থাকতে পারছে না। জীবন বাঁচানোই দায়।

পালপাড়ার শিশুদের জন্য নেই নতুন বছরের রঙিন জামা কিংবা বছরের প্রথম দিনের ভালো খাবারের আয়োজন। এরা মানুষের উৎসব রাঙাতে নানা সামগ্রী রঙিন করে তুললেও এদের জীবন রাঙাতে নেই কারো উদ্যোগ।

কুন্দসী পাল পাড়ার অর্পনা পাল বলেন, বৈশাখী মেলার জন্য কত কষ্ট করে সব খেলনায় রং করছি কিন্তু আমাদের জীবনে কোনো রং নেই। মেলায় বেচার জন্য মেমপুতুলের গায়ে লাল রং করছি, আমার ছোট্ট মেয়েটির জন্য  বৈশাখের কোনো জামাই কেনা হয়নি।

নড়াইলের মৃৎশিল্পীদের তালিকা থাকলেও এই শিল্পকে বাঁচাতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই জেলা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের। যদিও আশার বাণী শোনালেন নড়াইল ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক গৌরব দাস। তিনি বলেন, আমরা তাদের উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দিতে পারি, ঋণ সহায়তা দেবার মাধ্যমে মৃৎশিল্পীদের টিকিয়ে রাখতে পারি। 

হারিয়ে যেতে বসা মৃৎশিল্পী টিকিয়ে রেখে বাঙালি সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখলেই উৎসব আরো রঙিন ও প্রাণবন্ত হবে- এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, বি-১১৬/১ শিকদার টাওয়ার. বাসস্ট্যান্ড, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত : ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ( প্রা: ) লি:,
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
কপিরাইট : সিএনআই নিউজ ( নিউজ এজেন্সী )
Design & Developed BY PopularITLimited