,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ

সিকান্দার আবু জাফর : সারাবিশ্বে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন। প্রতিনিয়ত ব্যাপক মাত্রায় পরিবেশের নেতিবাচক পরিবর্তনে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে এবং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা। এ উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ নামক ‘হটস্পট’টি দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ঝুঁকি সূচকে বিশ্বের ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের ‘Turn Down The Heat : Climate Extremes Regional Impacts and the Case for Resilience’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি ৩-৫ বছর পর পর বাংলাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যায় ডুবে যাবে অর্থাৎ প্লাবিত এলাকার পরিমাণ বাড়বে ২৯ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা অনেক বাড়বে এবং তিন মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলে আঘাত হানবে। এতে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।

            ২০৮০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৬৫ সে. মি. বাড়লে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ৪০ শতাংশ ফসলি জমি হারিয়ে যাবে। এ ছাড়া তাপদাহ ও খরার পরিমাণ বাড়বে। ১০ শতাংশ ধানের জমি এবং ৩০ শতাংশ গমের জমি হ্রাস পাবে। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস হবে, রোগ-ব্যাধির বৃদ্ধি ঘটবে। বাংলাদেশ নাতিশীতোষ্ণ তাপমাত্রার দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও গত কয়েক বছরে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক আচরণ সেই পরিচিতিকে ম্লান করেছে।

            WWF-এর গবেষণায় দেখা যায়, শুধু ঢাকা শহরে ১৯৯৫ সালের মে মাসের তুলনায় ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসের তাপমাত্রা বেড়েছে ১.৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০১৬ সাল ছিল শতাব্দীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রার বছর। এ বছরের গড় তাপমাত্রা ছিল ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রমতে- ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের তাপমাত্রা গড়ে ১.৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ২১০০ সাল নাগাদ ২.৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

            বর্তমানে দেশের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের ৩৩টি জেলা বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। উন্নত বিশ্বের গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলো যেমন- চীন (২৫.৯৩%), যুক্তরাষ্ট্র (১৩.৮৭%), ভারত (৬.৪৩%), রাশিয়া (৪.৮৬%) জলবায়ু পরিবর্তনে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা পালন করেছে। ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ বিশ্বের দেশসমূহের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকা বর্তমান বিশ্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে উন্নয়নশীল বিশ্বের নবীন দেশটি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে নিজেকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

            বাংলাদেশ UNFCCC-এর সদস্য দলগুলো নিয়ে প্রতিবছর আয়োজিত COP সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করে আসছে। ২০১৫ সালের COP-21 সম্মেলনে গৃহীত প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বাংলাদেশ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রথম দিনেই স্বাক্ষর করেছে। বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে ২০১৩ সালের কিয়োটো প্রটোকলের দ্বিতীয় মেয়াদে (২০১৩-২০২০) অনুসমর্থন করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নিজেদের অবস্থান বিশ্বের দরবারে জানান দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ‘Economics of Adaptation to Climate Change : Bangladesh’ অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা মোকাবিলায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর গড়ে মোট ১৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রয়োজন হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে সরকার জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan 2009 প্রণয়ন করে ৬টি বিষয়ভিত্তিক ৪৪টি কার্যক্রম নির্ধারণ করে কাজ করছে।

            বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে ২০১০ সালের জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল গঠন করেছে। এ তহবিলে ২০১০ সাল থেকে মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত মোট ৩,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যখন বিশ্বের কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলো নিজেদের ব্যাপারে নীরব তখন বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহায়তায় ১০ শতাংশ এবং নিজস্ব অর্থায়নে ৫ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্যাপক শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

            বাংলাদেশ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জলবায়ু অর্থায়নে ১.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যা ঐ বছরের বাজেটের ৬.৩৬ শতাংশ। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১৮ সালের ১৪ মে মন্ত্রিসভায় বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় নামকরণ করে জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়টির প্রশাসনিক ভিত্তি প্রদান করা হয়েছে, যা তৃতীয় বিশ্বে নজিরবিহীন। এ ছাড়াও বর্তমান সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২০টি মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দে জলবায়ু অর্থায়ন নিরূপণপূর্বক একটি প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

            সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ নিশ্চিত করার জন্য এমন একটি সর্বজনীন সমাধান দরকার, যাতে এর অধিবাসীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, বি-১১৬/১ শিকদার টাওয়ার. বাসস্ট্যান্ড, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত : ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ( প্রা: ) লি:,
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
কপিরাইট : সিএনআই নিউজ ( নিউজ এজেন্সী )
Design & Developed BY PopularITLimited