,
news-banner-copy
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

শিশুর জন্য নিরাপদ পৃথিবী

rapeসিএনআই নিউজ:নুসরাত ও দোলা। তাদের ঘরের সামনেই খেলছিল তারা। দোলার বয়স পাঁচ বছর। নুসরাতও কাছাকাছি বয়সের।

‘অ্যাই তোমরা সাজবে আমার কাছে? লিপস্টিক দেব। আর তোমাদের সাজিয়ে দেব।’- লিপস্টিক দেওয়ার কথা বলে মোস্তফা তাদের নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। ঘরে নেওয়ার পর প্রথমে নুসরাত ও দোলাকে তারা সাজিয়ে দেয়। সাজিয়ে দুই পাষণ্ড মিলে শিশু দুটিকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। ভয়ে-ব্যথায় শিশুরা চিৎকার করে ওঠে। আর তখন মোস্তফা ও আজিজুল সাউন্ডবক্সে উচ্চস্বরে গান চালিয়ে দেয়। দু’জনই ছিল নেশাগ্রস্ত। শিশুদের নির্যাতন করে একপর্যায়ে দোলাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আজিজুল। আর গলায় গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে নুসরাতকে।

ঘটনাটি ঘটে গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ৯ জানুয়ারি। সেদিন ছিল দোলার জন্মদিন। জন্মদিনে ছোট্ট দোলার আবদার ছিল- বাবা এবার খুব বড় একটা কেক নিয়ে আসবে। কেক কেনা আর হলো না। কিনতে হলো কাফনের কাপড়। দোলার বাবা ফরিদুল ইসলাম কোনাবাড়ির একটি ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন।

৭ জানুয়ারি রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় ধর্ষণের শিকার হয় দুই বছরের শিশু আয়েশা। মা-বাবা ও তিন বোনের সঙ্গে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোডের এক বস্তিতে থাকত শিশু আয়েশা। মা-বাবা সকালে শিশুটিকে বোনদের সঙ্গে রেখে কাজে যেতেন। কাজের এই সময়টাতে গেণ্ডারিয়ার সাধনা ঔষধালয়ের সামনের গলিতে খেলে বেড়াত শিশুটি। অন্য দিনের মতো ৭ জানুয়ারি বিকেলে খেলতে বের হয় আয়েশা। আয়েশাকে খিচুড়ির লোভ দেখিয়ে তাদের বাসার মালিক  নিজের ঘরে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশের চারতলা একটি ভবনের সামনে আয়েশার রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

৮ জানুয়ারি সাতক্ষীরায় শৌচাগারের সেপটিক ট্যাঙ্কে পাওয়া যায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীর লাশ। শিশুটির বাবার অভিযোগ ধর্ষণের পর পুকুরের পানিতে ফেলে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশ শৌচাগারের সেপটিক ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখা হয়।

আট বছরের সুস্মিতা আশাশুনি উপজেলার গাবতলা গ্রামের প্রশান্ত দাসের মেয়ে। সে গাবতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

সুস্মিতা প্রতিবেশী এক বাড়িতে কলেজপড়ুয়া এক মেয়ের কাছে প্রতিদিন বিকেলে প্রাইভেট পড়তে যায়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় প্রাইভেট শিক্ষক বাড়িতে ছিলেন না। তাই তার ভাই জয়প্রকাশ সরকার সুস্মিতাকে পড়াতে বসে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সুস্মিতাকে ধর্ষণ করে জয়প্রকাশ। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সুস্মিতা মারা গেছে ভেবে তাকে বাড়ির পুকুরে ফেলে দেয়। পরে গ্রামবাসী সুস্মিতাকে খুঁজতে থাকার একপর্যায়ে পুকুরে জাল ফেলার কথা বললে সবার অজান্তে পুকুর থেকে লাশ তুলে সুস্মিতাকে নিজেদের শৌচাগারের সেপটিক ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখে। এই হলো আমাদের বছর শুরুর শিশু ধর্ষণের ঘটনা। আর নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ঘটনা তো এখন আমাদের সবার জানা। নির্বিচারে এমন শিশু ধর্ষণের কথা আমরা জানতে পারি বছরের শুরুতে। আর আতঙ্কগ্রস্ত হই। আতঙ্কগ্রস্ত হয়েছেন মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানমও। তিনি জানান, বিস্মিত হতে হতে আমরা কি তবে বিস্ময়বোধও হারিয়ে ফেলেছি। বছরের শুরুতে এমন করে ঘটে ধর্ষণের ঘটনা। সকালের সূর্য কি আমাদের কোনো ইঙ্গিত দেয়? আমরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি। সুবর্ণচরের ঘটনা যদি দেখি একজন নারীকে তার সন্তানদের সামনে কীভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো। আর ছোট এই শিশুদের ঘটনা সমাজের অন্ধকারের কথাই বলে। আজ যদি দেশে আগের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের বিচার হতো, তাহলে কেউ এমন সাহস পেত না। যারা আমাদের সমাজটাকে এমন নিরাপত্তাহীনতায় ফেলছে, যারা ছোট ছোট এই মুখগুলোকে নৃশংসভাবে হত্যা করছে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সেই শাস্তি কার্যকর হলে কিন্তু এমন ঘটনা কমতো অনেকখানি।

২০১৮ সালে মোট ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৯৪২টি। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয় ১৮২ জন নারী ও শিশু। আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৬৩ জনকে। বছরটিতে যৌন নির্যাতনের শিকার হন ১৪৬ জন। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার ২১২ জনের মধ্যে হত্যা করা হয় ১০২ জনকে।

মহিলা পরিষদের লিগ্যাল এইড উপপরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে গত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বছরটিতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয় ২৮১ জন। ১৯৩টি বাল্যবিয়ের  ঘটনার মধ্যে ৫২টি সম্পন্ন হয় এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ  করা হয় ১৪১টি।

গত বছরে উদ্বেগজনক হারে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মোট ৩ হাজার ৯১৮টি নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন নির্যাতনের কারণে ৩০৫ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। মোট ৪৮৮ নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়। হত্যার চেষ্টা করা হয় ৩৯ জনকে। গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার ৮৭ জনের মধ্যে হত্যা করা হয় ৫৮ জনকে। বছরটিতে নির্যাতনের কারণে চারজন গৃহকর্মী আত্মহত্যা করে। উত্ত্যক্তের শিকার ১৭১ জনের মধ্যে ১৪ জন আত্মহত্যা করে। ৩৭৭ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। যে দিন পেছনে ফেলে এসেছি। নতুন বছরেও কি আমাদের এভাবে আঙুলে গুনে শিশু ধর্ষণের সংখ্যা বের করতে হবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, বি-১১৬/১ শিকদার টাওয়ার. বাসস্ট্যান্ড, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত : ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ( প্রা: ) লি:,
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
কপিরাইট : সিএনআই নিউজ ( নিউজ এজেন্সী )
Design & Developed BY PopularITLimited