,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

ব্লাসফেমি: পাকিস্তানে আসিয়ার মৃত্যদণ্ড নিয়ে জটিলতা চরমে

সিএনআই নিউজ: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পাকিস্তানে মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া আসিয়া বিবির শাস্তি আপিলের রায়ে কমিয়ে দেওয়া হলে তার জবাবে ‘চরম পরিণতির’ হুমকি দিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক দল ‘তেহরিক-ই-লাব্বাইক’ (টিএলপি)। সোমবার মামলাটির আপিল আবেদনের শুনানি হয়েছে। কিন্তু আদালত কোনও রায় দেয়নি।

পাকিস্তানে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের একটি বিশেষ বেঞ্চ ধর্মীয় অবমাননার দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত খ্রিস্টান নারী আসিয়া বিবির ফাঁসি কার্যকরের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আপিলের শুনানি শেষ করে সেদিন। কিন্তু কোনো রায় ঘোষণা করেনি। আপিলের রায় কবে হবে তাও নিশ্চিত নয়।

blashfemy_pakistanএছাড়া রায় ঘোষণার জন্য আদালত কোনো তারিখ ঘোষণা না করলেও শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের বিস্তারিত রায় জারি না হওয়া পর্যন্ত মামলাটির বিষয়ে মন্তব্য বা আলোচনা করার বিরুদ্ধে প্রচার মাধ্যমকে সতর্ক করে দেন।

পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক মহলের কেউ কেউ ধারণা করছে, আসিয়া বিবিকে অন্য কোনও দেশে হস্তান্তর করে দেওয়া হতে পারে বা আপিল রায়ে তার সাজা কমানো হতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তানের কট্টরপন্থি সংগঠন টিএলপি (তেহরিক-ই-লাব্বাইক)।

প্রধান বিচারপতি মিয়া সাকিব নিসার, বিচারপতি আসিফ সাঈদ খোসা ও বিচারপতি মাজহার আলম খান মিয়ানখেল ২০১৪ সালে করা আসিয়ার আপিলের শুনানি করেন গত সোমবার।

আসিয়া বিবির ঘটনা যেভাবে শুরু: এর শুরু পানি পান করা নিয়ে প্রতিবেশিদের সঙ্গে ঝগড়া দিয়ে। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে যেসব খবর এসেছে তার একটিতে বলা হয়- প্রতিবেশীরা আসিয়াকে তাদের গ্লাসে পানি খেতে নিষেধ করেছিল বা আসিয়া যে পাত্রে মুখ লাগিয়ে পানি পান করেছিল তা দিয়ে পানি পানে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল তার প্রতিবেশী মুসলিম নারীরা।

পরে ওই প্রতিবেশীরা দাবি করে, আসিয়া বিবি ইসলামের নবী মোহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তবে আসিয়া বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী মিডিয়া ডন জানায়, আসিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে তিনি মহানবী মোহাম্মদ (সা.) এর বিরুদ্ধে মানহানিকর ও তীব্র ব্যাঙ্গাত্মক তিনটি বক্তব্য দিয়েছেন। ঘটনা ঘটে ২০০৯ সালের ১৪ জুন। প্রতিবেশী তিন মুসলিম নারীর সঙ্গে ওই সময় আসিয়া মাঠে ফল তুলছিলেন।

আসিয়ার বিরুদ্ধ পক্ষের আইনজীবীদের দাবি, একই মাসের ১৯ তারিখে স্থানীয় সালিশে ক্ষমা চাইতে গিয়ে আসিয়া তার ‘দোষ স্বীকার’ করেছেন। তবে তার আইনজীবী সাইফুল মুলুক দাবি করছেন, সাক্ষীরা মিথ্যা বয়ান দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আসিয়ার সঙ্গে তর্কে জড়ানো দুই মুসলিম নারী আসমা ও ইসমার জবানবন্দিতে বৈপরীত্য রয়েছে। তিনি বলেন, সাক্ষীদের সবাই চাচ্ছে যাতে আসিয়া কোনোমতেই বাঁচতে না পারে।

২০১০ সালে পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা আইনে প্রথম নারী হিসেবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে প্রবল সমালোচনা হচ্ছে। পাকিস্তানে তার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। কিন্তু আসিয়া বিবির পক্ষে কথা বলায় ২০১১ সালে পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরকে ইসলামাবাদে তারই দেহরক্ষী গুলি করে হত্যা করে।

পরে বিচারে কাদরি নামের সেই দেহরক্ষীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে বীর হিসেবে সমাহিত করা হয় তাকেএর আগে তাকে বন্দি করে জেলে নেওয়ার সময়ে পথে গোলাপের পাঁপড়ি ছিটিয়ে সম্মান জানায় কট্টরপন্থিরা। আবার তার মৃত্যুর পর তার কবরে মাজার তৈরি করা হয়।

একই বছর (২০১১ সাল) ব্লাসফেমি আইনের আরেক সমালোচক তৎকালীন সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী শাহবাজ ভাট্টিকে গুলি করে হত্যা করে গুপ্তঘাতকরা৷

প্রসঙ্গত, ১৯৮০ সালে সেনা শাসক জেনারেল জিয়াউল হকের করা ওই আইনটির সংশোধন দাবি করেছিলেন সালমান তাসির। অনেকের মতে, পাকিস্তানে অনেক ক্ষেত্রেই এই আইনকে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থে ব্যবহার করা হয় খ্রিস্টান, হিন্দু, এমনকি আহমদিয়াদের বিরুদ্ধেও।

২০১০ সালে নিম্ন আদালত আসিয়াকে ধর্ম অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়৷ তবে তার আইনজীবীর অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে আসিয়ার বিরুদ্ধে ব্লাসফেমির অভিযোগ আনা হয়েছে৷  বিষয়টি এতদূর পর্যন্ত গড়িয়েছে যে আসিয়ার কন্যা ভ্যাটিকান সিটিতে গিয়ে খ্রিস্টিয়ান শীর্ষ ধর্মগুরু পোপের সঙ্গে দেখা করেন- মায়ের জীবন রক্ষার তদবিরে। তিন কন্যার জননী আসিয়ার স্বামী আশিক মাসিহ আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

অপরদিকে, ব্লাসফেমি আইনের সমালোচকদের হত্যাকাণ্ডে ভয় ঢুকেছে পাকিস্তানি আইনজীবীদের মাঝে৷ ২০১৪ সালে লাহোর হাই কোর্ট আসিয়ার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে৷ ২০১৬ সালে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে গেলে সেখানে এক বিচারক ‘ব্যক্তিগত’ কারণ দেখিয়ে তাতে অংশ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন৷

তবে এখনো পর্যন্ত পাকিস্তানে এই আইনে কারো বিরুদ্ধে দেওয়া রায় কার্যকর করা হয়নি। কিন্তু এর সমান্তরালে ব্লাসফেমি সংক্রান্ত বিষয়ে ক্রুব্ধ জনতার হাতে নিহত হওয়ার উদাহরণ রয়েছে বেশ কিছু৷

এখন আসিয়ার আপিলের রায় নিয়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মৃত্যুদণ্ডের রায় পাল্টে গেলে ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির’ হুমকি দিয়ে রেখেছে দেশটির ধর্মীয় চরমপন্থিরা। সেখানকার সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের আশঙ্কা, বিচারকদের বেঞ্চ রায় পাল্টানোর সিদ্ধান্ত জানালে পুরো দেশজুড়ে তাদের ওপর নৃশংসতা শুরু হতে পারে৷

এই আশংকা কিন্তু সোমবার আপিল শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে গড়া বেঞ্চের বক্তব্যেও পরিষ্কার ছিল। প্রধান বিচারপতি মিয়া সাকিব নিসার আপিল বিভাগের (সর্বোচ্চ আদালতের) পূর্ণাঙ্গ রায় জারি না হওয়া পর্যন্ত এর বিষয়ে মন্তব্য বা সমালোচনা না করতে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন মিডিয়াকে।

বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের সরকার ও মানবাধিকার সংগঠন আসিয়ার মামলার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে৷ আসিয়ার মেয়ে ভ্যাটিকান সিটিতে গিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে দেখা করে এসেছে৷ এছাড়া ২০১৪ সালে লাহোর হাই কোর্টের রায়কে ‘ভয়াবহ অবিচার’ আখ্যা দেয় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল৷ আমেরিকান সেন্টার ফর ল অ্যান্ড জাস্টিসও আসিয়ার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের নিন্দা করেছে৷

উল্লেখ্য, মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইনকে ব্যবহার করা হয়। সেখানে ধর্ম অবমাননার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠলেই সাধারণ্যে এমন আবেগ ছড়িয়ে পড়ে যে দেখা যায়, কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করে অভিযোগ ভুল প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সংশ্লিষ্ট আইনটিতে ধর্ম অবমাননার সংজ্ঞাই স্পষ্ট নয়। তাছাড়া অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ হাজির করাও মুশকিল। কারণ, সেরকম ক্ষেত্রে নতুন করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠতে পারে। পাকিস্তানে এমন উদাহরণ অনেক আছে যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অনেককে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে। ডন.কম, এপি, রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, বি-১১৬/১ শিকদার টাওয়ার. বাসস্ট্যান্ড, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত : ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ( প্রা: ) লি:,
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৮৫৬৪১৫০০০
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
কপিরাইট : সিএনআই নিউজ ( নিউজ এজেন্সী )
Design & Developed BY PopularITLimited