,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

ঝালকাঠির সুগন্ধা-বিষখালী নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে

elishসিএনআই  নিউজ : গত এক সপ্তাহে ঝালকাঠির সুগন্ধ্যা-বিষখালীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। জালে ধরা পড়া ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালী ইলিশের ঝিলিক দেখে জেলেদের চোখে-মুখে ফুটে উঠছে আনন্দের হাসি।
ঝালকাঠি জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, বরিশালের কীর্তন খোলার শেষ সীমা নলছিটির দপদপিয়া থেকে শুরু সুগন্ধা নদীর পথচলা। এরপর ঝালকাঠির গাবখান মোহনা থেকে শুরু বিষখালী নদীর। ঝালকাঠির ১৭ কিলোমিটার প্রবাহমান সুগন্ধা আর বিষখালীর ৩০ কিলোমিটার মিঠা পানিতে প্রতি বছর প্রায় ৮০০ মেট্রিক টন সুস্বাদু ইলিশ ধরা পড়ে। প্রায় সারা বছরই এই দুই নদীতে জেলেরা রূপালি ইলিশ শিকার করে। তবে আগস্ট থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে সুগন্ধ্যা বিষখালী নদীতে
সুগন্ধা-বিষখালীর ইলিশ স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়, তাই এখানকার ইলিশ দেশের বিখ্যাত বলে দাবি করেন জেলেরা। ভরা মৌসুমে নদীতে জাল ফেললেই জেলেরা ছোট বড় ইলিশ পেয়ে থাকেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে জাল ফেলার উৎসব চলে মৌসুমজুড়ে। সারা বছর ইলিশ ধরা পড়লেও আগস্ট মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম। তবে ডিসেম্বরেও প্রচুর ইলিশ জালে আটকা পড়ে।
মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সুগন্ধা-বিষখালীর ইলিশ পাইকারদের মাধ্যমে যাচ্ছে দেশের বিভিন্নস্থানে। দেশ ছাড়িয়ে ভারতেও রপ্তানী হয় ঝালকাঠির সুস্বাদু রূপালি ইলিশ।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার সুগন্ধা নদীর বড় অংশটি হচ্ছে নলছিটি উপজেলার ভেতরে। ঝালকাঠি গাবখান নদীর মোহনা থেকে শুরু হয় ইলিশ ধরা। শেষ হয় বরিশালের কীর্তনখেলার পশ্চিমাংশে গিয়ে। সুগন্ধ্যার দীর্ঘ এই ১৭ কিলোমিটারের মধ্যে বেশিরভাগ জেলেইে ইলিশ শিকার করেন ঝালকাঠি লঞ্চঘাট, কলেজ খেয়াঘাট, নলছিটির বারইকরণ, সরই, মাটিভাঙা, বহরমপুর, চরবহরমপুর, ষাইটপাকিয়া ফেরিঘাট, নলছিটি লঞ্চঘাট, পুরানবাজার, সুজাবাদ, মল্লিকপুর, খোজাখালী, সারদল, কংসারদীঘি, কুমারখালী ও দপদপিয়া পুরনো ফেরিঘাট এলাকায়। বিষখালী নদীর ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে জেলেরা দিয়াকুল, বাদুরতলা, ভবানীপুর, বাদুরতলা, বড়ইয়া, পালট, শৌলজালিয়া, আওরাবুনিয়া, চল্লিশকাহনিয়া, প্রভৃতি এলাকায় শত শত জেলে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জাল ফেলে ইলিশ শিকার করছে । জেলেদের বেশিরভাগই নদীর দুই তীরের বাসিন্দা। ক্রেতা ও পাইকাররা অনেক সময় তরতাজা ইলিশ কিনতে নদীর তীরে এসে বসে থাকেন। জেলেরা মাছ শিকার করে বাড়ি ফেরার পথে পথেই বিক্রি হয়ে যায় অর্ধেকেরও বেশি ইলিশ। বাকি ইলিশগুলো শহর ও গ্রামের হাট-বাজারগুলোতে বিক্রি করা হয়। নদীতে বর্তমানে ৩০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে দুই-আড়াই কেজিরও ইলিশ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। আর একটু বড় ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ১২শ টাকা কেজি দরে। এক কেজির বেশী ওজনের ইলিশের দাম দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।
ঝালকাঠি শহরের বড় বাজার, চাঁদকাঠি চৌমাথা বাজার, নলছিটি লঞ্চঘাট বাজার, পুরাতন বাজার, কুমারখালী বাজার, রাজাপুরের বড়ইয়া বাজার, বাদুরতলা বাজার ও মীরের হাটে বছরের সবসময়ই পাওয়া যায় ইলিশের দেখা। মৌসুমের সময় দাম কম থাকে এসব বাজারে। বাকি সময় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয় ইলিশ।
নলছিটি জেলে পাড়ার বাসিন্দা প্রবীন জেলে জুধিষ্টি দাস বলেন, আমাদের নদীতে সারা বছরই ইলিশ পাওয়া যায়। সরকারী নিষেধাজ্ঞার সময়টুকো বাদ দিয়ে আমরা দিনরাত নদীতে জাল ফেলে ইলিশ ধরি। মৌসুমে ঝাঁকেঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে জালে। তাজা ইলিশ নদীর তীরে বসেই অনেকে কিনে নিয়ে যান। প্রতি নৌকায় কমপক্ষে ১০ কেজি ইলিশ পাওয়া যায়। বরিশাল থেকে মাছের আড়তদাররা এসে এখান থেকে ইলিশ কিনে নেয়। সেই ইলিশ পাঠানো হয় দেশের বিভিন্নস্থানে। অনেক সময় ভারতেও পাঠানো হয় সুগন্ধার সুস্বাদু ইলিশ।
চরবহরমপুর এলাকার জেলে আবুল কালাম বলেন, সুগন্ধার ইলিশ খেতে খুবই সুস্বাদু। আমাদের আশপাশের এলাকার মানুষ সারাবছরই সুগন্ধার ইলিশ খাচ্ছেন। ইলিশ মাছ ভাজার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। মিঠা পানির রূপালি ইলিশ ধরতে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জোয়ারের শুরুতে জাল ফেলি। এসময় মাছগুলো একত্রিত হয়ে ছোটাছুটি করে, তাই সময়মত জাল ফেলতে পারলে প্রতিনৌকায় ১০-১৫ কেজি করে ইলিশ পাওয়া যায়।
মাটিভাঙা এলাকার জেলে রবিউল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে মাছে পানিতে সমান থাকে ইলিশ। একটি জাল ফেলতে সময় লাগে ২০ মিনিট, আর তুলতে সময় লাগে ৩০ মিনিট। সব মিলিয়ে একঘন্টায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে।
ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বাবুল কৃষ্ণ ওঝা বলেন, সরকার ইলিশের প্রজনন মৌসুম হিসেব করে অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে টানা ২২দিন নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা নদীতে নামতে পারে না অভিযানের ভয়ে। সুগন্ধা-বিষখালীর মিঠা পানির ইলিশ খেতে সুস্বাদু, তাই স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি বিভিন্নস্থান থেকে পাইকাররা এসে ইলিশ কিনছে জেলেদের কাছ থেকে। ঝালকাঠির সুগন্ধ্যা ও বিষখালী নদীর প্রায় ৫০ কি.মি. জলসীমায় প্রতি বছর প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে জেলার সুগন্ধ্যা ও বিষখালী নদী থেকে ৯৮৮ মেট্রিক টন এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ১০৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ ধরা পড়ে। বর্তমান অর্থ বছরের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, বি-১১৬/১ শিকদার টাওয়ার. বাসস্ট্যান্ড, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত : ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ( প্রা: ) লি:,
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৮৫৬৪১৫০০০
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
কপিরাইট : সিএনআই নিউজ ( নিউজ এজেন্সী )
Design & Developed BY PopularITLimited