,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

গ্রাহকদের করণীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং হলে

bankসিএনআই নিউজ : বাংলাদেশে যে কোনও ব্যাংক সাইবার হামলার শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশে ব্যাংক এই আশংকার কথা জানিয়ে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের পুনেতে কসমস ব্যাংক থেকে হ্যাকিং-এর মাধ্যমে ৯৪ কোটি রুপি লোপাটের ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এই পদক্ষেপ নিল।

দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন তাদের সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করে, তার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তাদের নেওয়া পদক্ষেপের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাঝে-মধ্যে এ ধরণের নির্দেশনা দেই। তাছাড়া একটানা ২১ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত আমাদের ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকবে। যেহেতু কেউ থাকবে না সে জন্য যে কোনও জিনিস ঘটার সম্ভাবনা থাকতে পারে।’

প্রশ্ন হচ্ছে কোনও ব্যাংকে সাইবার হামলার মাধ্যমে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি কী করতে পারেন? কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং ব্যাংকিং বিশ্লেষকরা যে সব পরামর্শ দিচ্ছেন সেগুলো হচ্ছে-

১. কোন গ্রাহক যদি লক্ষ্য করেন যে, তার অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের অজান্তে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে তাহলে তাৎক্ষনিকভাবে সেটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

২. অ্যাকাউন্টে টাকা লেনদেন হলে সাধারণত গ্রাহকের মোবাইলে দ্রুত একটি বার্তা আসে। এতে যদি দেখা যায় যে গ্রাহক লেনদেন না করলেও টাকা উত্তোলনের বার্তা এসেছে তাহলে তাৎক্ষনিকভাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

৩. ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে না নিলে দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করা যেতে পারে।

৪. ব্যাংকে সাইবার নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে গ্রাহক বঞ্চিত হলে ব্যাংক সে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য। গত বছর একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পুরো টাকা ফিরিয়ে দিয়েছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের দুর্বলতার কারণে যদি কোনও সমস্যা হয় তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকের পাশে থাকে।

৫. গ্রাহকের ডেবিট কার্ড এবং ক্রেটিড কার্ড-এর পাসওয়ার্ড সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং গোপনীয়তার সঙ্গে রাখতে হবে।

৬. গ্রাহকের অসতর্কতার কারণে কোনও ক্ষতি হলে ব্যাংক সে দায় নেবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষক সাদিয়া নূর খান বলেন, সাইবার সিকিউরিটি বিপন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দায়ি করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সচেতনতাও একটি বড় বিষয়। একজন গ্রাহক যাতে তার অনলাইন ব্যাংকিং তথ্য কারও নিকট প্রকাশ না করেন সে বিষয়ে তাদের সচেতন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

৭. কর্মকর্তারা বলেছন, গ্রাহকের ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য কারও কাছে প্রকাশ না করা উত্তম।

৮. ফেসবুক বা ইমেইলে অপরিচিত কোনও ব্যক্তির পাঠানো অ্যাটাচমেন্ট ক্লিক না করাই উত্তম। এতে গ্রাহকের মোবাইল ফোন সেট কিংবা কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং হ্যাকাররা সেটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।

বেসরকারি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে আগের তুলনায় অনেক তৎপর। বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকগুলো পেমেন্ট সিস্টেম হ্যাক করা এতো সহজ কাজ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রফিকুল বলেন, তাদের ব্যাংকে সাতটি স্তরে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। হ্যাকাররা অর্থ লোপাটের জন্য নতুন-নতুন কায়দা তৈরি করছে। এ কথা উল্লেখ করে রফিকুল বলেন, ‘আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরের সিকিউরিটি অনেক ভালো আছে। তবে এগুলোকে আরও ভালো করার সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, একজন গ্রাহক যে মোবাইল ফোট সেট, ট্যাব কিংবা ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যাবহার করে অনলাইন ব্যাংকিং করছে সেগুলোর বিষয়ে তাকে সতর্ক থাকতে হবে। হ্যাকাররা সে সব জায়গায় ম্যালওয়্যার সেট করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

রফিকুল ইসলামের মতে, হ্যাকিং থেকে নিরাপদ থাকতে হলে ব্যাংকগুলোকে যেমন সতর্ক থাকতে হবে তেমনি গ্রাহকদেরও সচেতন থাকতে হবে।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, বি-১১৬/১ শিকদার টাওয়ার. বাসস্ট্যান্ড, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত : ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ( প্রা: ) লি:,
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৮৫৬৪১৫০০০
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
কপিরাইট : সিএনআই নিউজ ( নিউজ এজেন্সী )
Design & Developed BY PopularITLimited