,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

লক্ষ্মীপুরে সুপারি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে

2017-10-08_4_805591সিএনআই নিউজ : উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর জেলা সুপারির রাজধানী হিসেবে পরিচিত। এ জেলা বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই সুপারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হাটবাজারে কেনাবেচায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একদিকে স্থানীয় বাজারে সুপারির চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় সুপারি চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। অন্যদিকে চাষাবাদে ঝুঁকি না থাকায় সুপারি চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন জেলার বেশির ভাগ কৃষক।
জানা যায়, সুপারি গাছ একবার রোপণ করলে তেমন কোনো পরিচর্যা ছাড়াই টানা ২৫-৩০ বছর ফলন দেয়। আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় এবং আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করায় দিন দিন এ অঞ্চলে সুপারি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় অন্যান্য ফসলের তুলনায় অধিক লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। সুপারি বাগানে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কিংবা রোগ-বালাই কম থাকায় এ অঞ্চলের কৃষকরা সুপারি চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। চলতি মৌসুমের শুরুতেই সুপারি বিক্রির বড় হাট বসেছে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী, সদর উপজেলার দালাল বাজার, চররুহিতা, ভবানীগঞ্জ, মান্দারী, চদ্রগঞ্জ, জকসিন, রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ বাজার, খাসের হাট, মোল্লারহাট ও রামগঞ্জ, কমলনগর, রামগতিতে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সুপারিকে ঘিরে চলছে জমজমাট ব্যবসা।
জেলায় উৎপাদিত সুপারির ৭০ ভাগ খালডোবা, পুকুর ও পানিভর্তি পাকা হাউজে ভিজিয়ে রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আর ৩০ ভাগ সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ছাড়াও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। উৎপাদিত সুপারি জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। চলতি মৌসুমের উৎপাদিত সুপারি থেকে প্রায় ৩শ ২৫ কোটি টাকার বেশি আয় হবে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর লক্ষ্মীপুর জেলায় ৬ হাজার ৩শ’ ৫৫ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৯শ’ হেক্টর, রায়পুর উপজেলায় ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর, রামগঞ্জে ৮শ’ ৯০ হেক্টর, কমলনগরে ৩শ’ ৭৫ ও রামগতি উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত সুপারি যাচ্ছে ঢাকা, চট্রগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, শ্রীমঙ্গলসহ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। শুরুতে ২ হাজার থেকে ২৫শ’ টাকা প্রতি কাওন (১৬ পোন) সুপারি বিক্রি হলেও মাঝামাঝিতে দাম একটু কমে। আবার শেষ মূহুর্তে দাম বেড়ে যায়।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। পরে এ ফুল থেকে সুপারি হয় পাকে আশ্বিন-কার্তিক মাসে। মূলত কার্তিক মাসে পুরোপুরি সুপারির ভরা মৌসুম। এ বছর কাঁচা-পাকা সুপারির ভালো দাম পেয়ে খুশি কৃষক, গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। লক্ষ্মীপুরে সুপারির প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র না থাকায় অনেক সময় কৃষকরা সুপারির ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
সুপারি চাষিরা জানায়, সুপারি গাছের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতা এবং তদারকির কারণে গাছে রোগবালাই কম ও ফলন বেশি হয়েছে। গাছ রোপণ ও সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণে কৃষি বিভাগের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নে লক্ষ্মীপুরে এ অর্থকরী ফসল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছে বলেও তারা জানান।
সুপারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর এই মৌসুমে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে সুপারি কিনে মজুদ করেন তারা। পরে শুকিয়ে বা পানিতে ভিজিয়ে সুপারি সংরক্ষণ করে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. মো: শফি উদ্দিন জানান, গত বছরের তুলনায় এবার সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদিত এ সুপারি থেকে প্রায় ৩শ’ ২৫ কোটি টাকার বেশি আয় হবে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সুপারি বাগান করার মধ্য দিয়ে এখানকার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কাঁচা-পাকা সুপারির দাম কিছুটা বেশি। এত ভালো দাম পেয়ে চাষিরাও খুশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, বি-১১৬/১ শিকদার টাওয়ার. বাসস্ট্যান্ড, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত : ক্রাইম নিউজ ইন্টারন্যাশনাল ( প্রা: ) লি:,
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৮৫৬৪১৫০০০
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
কপিরাইট : সিএনআই নিউজ ( নিউজ এজেন্সী )
Design & Developed BY PopularITLimited